ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছেন ক্ষুদ্রশিল্পের উদ্যোক্তারা

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে মন্থর গতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সিএমএসএমই ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের নিচে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সিএমএসএমই খাতে ৪২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। যা এর আগের তিন মাসে বিতরণ করা ঋণের তুলনায় ২৮৬ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত তিন মাসে সিএমএসএমই খাতে ঋণ বেড়েছিল ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ওই ত্রৈমাসিকে সিএমএসএমই ঋণ ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা বেড়ে ৪১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। 

এর আগের প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সিএমএসএমই খাতে ৪০ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো।

সব মিলিয়ে বিদায়ী চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে এসএমই ঋণ বিতরণ হয় ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। তবে ইতিপূর্বে বিতরণ করা সব সিএমএসএমই ঋণ মিলিয়ে এ খাতের ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৬টি গ্রাহকের অনুকূলে এই ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এসএমই খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। পল্লী এলাকার এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেওয়া হয় ৯ হাজার ১২৩ কোটি টাকার ঋণ। জামানতবিহীন ঋণ ছিল ৬ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

এর মধ্যে কুটির (কটেজ) প্রতিষ্ঠানে ৫৫৬ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। মাইক্রো খাতের প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র শিল্পে ২৪ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা এবং মাঝারি শিল্প খাতে ১১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো।

বিতরণ করা এসব ঋণের মধ্যে প্রস্তুতকারক শিল্পে গেছে ১৫ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা ঋণ। সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানে গেছে ৯ হাজার ৮ কোটি টাকা এবং ব্যবসা উপ-খাতের প্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার ৩৩০ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো।  

তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে সিএমএসএমই খাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ২২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংক বিতরণ করে ৮৩৯ কোটি টাকা। ইসলামিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ১২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ব্যাংকিং খাত থেকে সিএসমএসএমই খাতে ঋণ যায় ৪২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এছাড়া লিজিং প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক বহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করে ১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। 

নিয়মিত এসএমই ঋণের পাশাপাশি কভিড-১৯ এর প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্রশিল্পের উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ দিতে গত বছরের এপ্রিল থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই প্যাকেজ থেকে গত জুন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয় সিএমএসএমই খাতে। গত জুলাই থেকে প্রণোদনার দ্বিতীয় মেয়াদের ঋণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এ ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। তবে এর মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার, বাকিটা গ্রাহক পরিশোধ করবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, বড় শিল্পের পাশাপাশি আমাদের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা দরকার। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে অন্যদিকে মানুষ স্বল্প পুঁজি দিয়ে কিছু উৎপাদন করতে পারবে, বাজারজাত করতে পারবে, আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করতে পারবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পসুদে চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ২০ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গ্রামীণ এলাকায় ঋণদান কার্যক্রম সম্প্রসারণে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।