অভিবাসী দিবসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর খুনিকে আশ্রয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মানবতার কথা বলে

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে আমাদের অভিবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। প্রবাসীকল্যাণ ও  বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীরকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে না। একটা খুনিকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আশ্রয় দিয়েছে, তারাই আবার আইনের কথা বলে, মানবতার কথা বলে। যে ব্যক্তি (রাশেদ চৌধুরী) মানবতা ভঙ্গ করল, এতগুলো মানুষকে মেরে ফেলল, তাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।’ র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে কোনো ধরনের ‘পাল্টা অ্যাকশনে’ যাওয়ার মানসিকতা বাংলাদেশের নেই বলেও জানান ড. মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো চিন্তাভাবনা করছি না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, আমরা ভালো কাজ করছি; আপনারা আমাদের সঙ্গে ভালো কাজ করুন। দোষারোপের মানসিকতা আমাদের নেই। আমাদের বড় লক্ষ্য হলো কীভাবে আমাদের মানুষের কল্যাণ বাড়াতে পারি, উন্নয়ন করতে পারি। আমরা সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র নীতিও এটি। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে কাজ করতে চাই। কারও বিরুদ্ধে আমাদের কোনো আক্রোশ নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের প্রসঙ্গ টেনে ড. মোমেন বলেন, ‘খুব ভালো লেগেছে যে, তিনি (অ্যান্টনি ব্লিনকেন) আমার কথা বুঝেছেন। আমি তাকে বলেছি, র‌্যাব আপনাদের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। আপনাদের যে গ্লোবাল পলিসি; সন্ত্রাস কমানো, মাদক কমানো এসব বিষয়ে র‌্যাব কাজ করছে। তিনি বলেছেন, তারা আলোচনা করবেন। আলোচনার সুযোগ আছে। ডায়ালগ আছে।’

র‌্যাবের ওপর দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাব আমাদের দেশের দক্ষ প্রতিষ্ঠান। এ বাহিনীর কারণে সন্ত্রাসী কমেছে, মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে আছে। তারা মানব পাচার কমিয়েছে। তাদের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। তারা সহজে পয়সায় বিক্রি হয় না। তারা দেশের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে, মানবাধিকার রক্ষা করছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে যেসব কর্মজীবী মানুষ যাচ্ছেন, তাদের কয়েকগুণ বাড়তি বিমান ভাড়া গুনতে হচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানের ভাড়া ৪০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখেরও বেশি হয়েছে; এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা সহনীয় পর্যায়ে আনতে ইতিমধ্যে আমাদের বিমান প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেও প্রস্তাব করেছি, আবার করতে চাই ৩০ ডিসেম্বরকে আমরা প্রবাসী দিবস ঘোষণা করতে চাই। আমাদের মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অ্যাপ্রোচ করেছে। যেসব মন্ত্রণালয় এসব দিবসের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিশেষ অনুরোধ করব যেন ৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে দেশের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই দায়িত্ব নিলে কাজটি ত্বরান্বিত হবে।’

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের কারণে ইতালি ও গ্রিসে আমাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতালিতে এই সুযোগ বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী সফর করার পর তারা আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হয়েছে। সৌদি আরব ও আমিরাতে লোক নিয়োগ বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এসব দেশে আমরা যথেষ্ট কর্মী পাঠাচ্ছি। সম্প্রতি লিবিয়ার পরিস্থিতিও আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ আছে। যেহেতু পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে, তাই সেই বাজার খুলতে যথেষ্ট উদ্যোগী হয়েছি। হাইকোর্টের রায় আছে লিবিয়ায় লোক না পাঠানোর, আমরা চেষ্টা করছি সেটি তুলে নেওয়ার।’

এ সময় প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বাড়াতে প্রবাসীদের উদ্যোগে বিদেশে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বিদেশে বসে এনআইডি পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কাজ করার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ, এ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন প্রমুখ।