রাজধানীর বনানীতে প্রাইভেটকার চাপায় পা হারানো সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের ওপরই দুর্ঘটনার দায় চাপিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সেই গাড়ির মালিক সাঈদ হাসান। গত ১৪ ডিসেম্বর বনানী থানায় তিনি জিডিটি করেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া। জিডি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর গাজী। তিনি এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সার্জেন্ট মহুয়ার মামলারও তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলা তদন্তে অগ্রগতির বিষয়ে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর গাজী গতকাল বলেন, মামলার তদন্তে এখনো অগ্রগতি নেই আসামিও গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এদিকে জিডিতে সাঈদ হাসান বলেছেন, ‘তার গাড়িটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়নি। বরং বেআইনিভাবে উল্টোদিক থেকে মনোরঞ্জনই তার গাড়িতে লাগিয়ে দেন। এতে তিনি ও তার স্ত্রীর প্রাণহানির মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তাই উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব মনোরঞ্জনের ওপরই বর্তায়।’
সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের দাবি, বাবাকে গাড়িচাপা দেওয়ার বিচার চেয়ে ঘটনার শুরু থেকেই তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। ঘটনার ১৫ দিন পর থানা-পুলিশ অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা নিয়েছেন তার।
এদিকে রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধাীন মনোরঞ্জন হাজংয়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি স্ট্রোক করেছেন জানিয়ে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মামলার বাদী ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে কর্মরত সার্জেন্ট মহুয়া হাজং বলেন, তার বাবার অবস্থা সংকটাপন্ন। বাবা ডায়াবেটিসের রোগী। তার ওপর গাড়িচাপা দেওয়ার কারণে এরই মধ্যে বাবার এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আরেক পায়ের অবস্থাও ভালো নয়। কারণ দুই পায়েই আঘাত পান তিনি। পায়ে অপারেশন করবেন চিকিৎসকরা।
গত ২ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি সড়কে মনোরঞ্জন হাজংকে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেয় একটি লাল রঙের প্রাইভেট কার। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কেটে ফেলতে হয় একটি পা।