যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা

সাভারে যৌতুকের টাকা না পেয়ে নির্যাতনের অভিযোগে শান্তা ইসলাম (২২) নামে এক পোশাকশ্রমিকের মামলায় তার শ^শুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল রবিবার ভোরে সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন নজরুল ইসলাম (৫০) ও খুরশিদা বেগম খুশি (৪০)।

সিগারেটের ছ্যাঁকা ও গরম পানিতে শরীর ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় গত শনিবার বিকেলে ছয়জনের নামে মামলা করেন শান্তা ইসলাম। মামলার অন্য আসামিরা হলেন শান্তার স্বামী জহিরুল ইসলাম সাগর (২৫), সাগরের মামাতো ভাই নীরব হোসেন শাওন (২৬), সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও জুলহাস (৩০)।

সাভার মডেল থানার এসআই জাহিদ হাসান জানান, গৃহবধূ মামলা করার পর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শান্তা ইসলামের গ্রামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামে। তার স্বামী সাগর সাভারের গেন্ডা এলাকার বাসিন্দা।

শান্তার অভিযোগ, দুই বছর আগে সাগরের সঙ্গে তার প্রেম হয়। বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে সাগরের বাড়িতে গিয়ে অনশন করেন তিনি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাকে বিয়ে করেন সাগর। তবে শ^শুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন করতেন। অমতে বিয়ে করায় মা-বাবার সঙ্গেও শান্তার যোগাযোগ ছিল না। তবে স্বামীর চাপে পড়ে একবার মায়ের কাছ থেকে টাকা এনে দেন।

এরপর স্বামীর সঙ্গে ধামরাইয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ নেন শান্তা। কিন্তু প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন সাগর। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ ডিসেম্বর শান্তাকে কৌশলে গেন্ডার বাড়িতে ডেকে নেন সাগর। এরপর সবাই মিলে তাকে নির্যাতন করেন। এ সময় সিগারেটের ছ্যাঁকা, গরম পানিতে শরীর ঝলসানো ছাড়াও মুখে বিষ দেওয়ার চেষ্টা করে বলে দাবি শান্তার। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে শনিবার মামলা করেন তিনি।