কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বটতৈল ইউনিয়নের দোস্তপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) মিজানুর রহমান ওরফে মিন্টু ফকির মোটরসাইকেলে করে নির্বাচনী প্রচারে বের হন। তারা দোস্তপাড়া বাজারে পৌঁছলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোমিন মণ্ডলের কর্মী-সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মিজানুরের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে পাল্টা হামলা চালালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানসহ দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিন্টু ফকির আহতের ঘটনায় তার বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন এবং কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। পুলিশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দোস্তপাড়া ও পাশের খাজানগর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক র্যাব সদস্যও মোতায়েন আছে।’
সাভারে ‘বিদ্রোহীদের’ হাত-পা ভেঙে দিতে বললেন আ.লীগ নেত্রী : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের হা-পাত ভেঙে দেওয়ার ‘নির্দেশ’ দিয়েছেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা দৌলা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘বিদ্রোহী’দের হাতের কবজি আর পায়ের ‘নলা’ ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন ঢাকা জেলা পরিষদের সাবেক এই প্রশাসক। যদিও দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেছেন, বক্তব্যটির মধ্য দিয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে ‘দলের কঠোর’ অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন।
আসন্ন পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের হুঁশিয়ার করে হাসিনা দৌলা বলেন, তাদের আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। জনসভায় উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তাদের (বিদ্রোহী) বসাইয়া দিবেন। এই যে পায়ের হাড্ডি আছে না, হাড্ডি ভেঙে দিবেন। হাতের কবজি ভেঙে দিবেন। পায়ের যদি নলা ভেঙে দেন, আর হাঁটতে পারবে না।’
এ সময় ‘বিদ্রোহী’দের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সুতরাং আপনারা সাবধান হয়ে যান। আপনাদের পেছনে সরকার এমনিতে লেগে আছে। আমাদের সরকারি সংস্থাগুলো আপনাদের হাঁটতেও দেবে না, আপনাদের ভোট চাইতেও দেবে না। ভোট দিতেও দেবে না। কষ্ট করে কিচ্ছু হবে না। আপনাদের টাকা যদি বেশি হয় সাভারের এমপি সাহেবরে দিয়ে আসেন। আমরা একটা আওয়ামী লীগের ভবন বানাব। আমি আপনাদের খোঁজখবর নিয়েছি। আপনাদের সম্বন্ধে রিপোর্ট ভালো না। সুতরাং যদি সময় থাকে আজ রাতের মধ্যেই বসে আমাদের টেলিফোনের মাধ্যমে অথবা আমাদের চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিন। আমরা আপনাদের বহিষ্কার করব না।’
এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসিনা দৌলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত বক্তব্যটির মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে দলের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি পরিষ্কার করেছি। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে সংগ্রাম করে দলকে টিকিয়ে রেখেছি আমরা। এখন যদি বিদ্রোহীদের কারণে দলের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করতে না পারি, সেটি হবে খুবই দুঃখজনক।’
বক্তব্যে ‘সরকারি সংস্থার’ কথা উল্লেখ করার বিষয়ে বলেন, ‘সরকারি সংস্থা তাদের মতোই কাজ করবে। কঠোর বার্তা দিতে আমি এমনিতে এটা বলেছি।’
গতকালের ওই নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব, বনগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংঠনের নেতাকর্মীরা।