ঢাকার ধামরাই পৌর এলাকায় অপরাধ প্রবণতা নির্মূলে এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল কয়েকজন যুবক। যে কারণে ঘটনার পর থেকেই চিহ্নিত অপরাধীদের হুমকি-ধমকির শিকার হন তারা। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে তাদের মধ্যে ৪ যুবকের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দিদার হোসেন ও তার গ্রুপের বিরুদ্ধে মারধর করার এই অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার রাতে ধামরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া মহল্লায় এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত ৪ যুবকতে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- ইব্রাহীম ওরফে সুমন মোল্লা (৩২), মমিনুল ইসলাম টিটু (২৮), সোহেল (৩৫) ও মমিনুল হক (৩০)। তারা সবাই ধামরাই পৌর শহরের দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তবে এদের মধ্যে ইব্রাহীম ওরফে সুমন মোল্লা ও মমিনুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাতেই ইব্রাহীম ওরফে সুমন মোল্লার বাবা মো. সোবহান মোল্লা বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সুমন নামে এক হামলাকারীকে আটক করেছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- দিদার হোসেন (৫৪), ফরহাদ (২৮), মুরাদ (২২), হেলাল (৩৩), তানভীর (২৬), হান্নান (৩৩), সুমন (৩৫), আল আমিন (২৩), জয়নাল (২৩)। তারা সবাই ধামরাই পৌর শহরের দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
আহত সুমন মোল্লার বাবা মো. সোবহান মোল্লা বলেন, আমার ছেলেসহ বাকিরা দক্ষিণ পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা নির্মূলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এ ঘটনায় এলাকার চিহ্নিত অপরাধীরা তাদের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে সুমন মোল্লা, সোহেল, টিটু ও মমিনুলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় ফরহাদ। পরে তাদের মারধর করে সেখানে আগে থেকেই অবস্থানকারী দিদার, তানভীর, মুরাদ, আলামিন ও ফরহাদসহ বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা আমিনুল হাসান গার্নেল বলেন, আমি মারধরের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই দিদারের লোকেরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দিদার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।