ঘন কুয়াশার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের সড়ক যোগাযোগের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই ফেরিঘাটে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার যানবাহন। এর মধ্যে ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফেরি চলাচল শুরু হয়। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার নৌরুটে সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর গতকাল সকাল ৯টার দিকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নৌপথ দুটির উভয় প্রান্তের চারটি ফেরিঘাটে তিন হাজারের বেশি গাড়ি আটকা পড়ে। কুয়াশা ও শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েন আটকা পড়া যানবাহনের কয়েক হাজার যাত্রী, চালক ও শ্রমিক।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর গতকাল সকাল ১০টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এর আগে ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে গত বুধবার রাত ১২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় নৌ কর্র্তৃপক্ষ। দীর্ঘক্ষণ ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া ঘাটে আটকা পড়ে প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১০ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যানবাহন ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় আছে। ১৩টি ফেরি দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস, ছোট যানবাহন ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে।’
পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ফেরিঘাটের পাটুরিয়া প্রান্তে দুইশের বেশি যাত্রীবাহী বাস, ১২০০ ব্যক্তিগত ও ছোট যানবাহন এবং এক হাজারের মতো পণ্যবাহী ট্রাক আটকে ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। এই নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তেও আটকে পড়ে এক হাজারের বেশি যানবাহন।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার পর যাত্রীবাহী বাস, ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। অপচনশীল পণবাহী ট্রাকগুলোর ফেরির নাগাল পেতে দু-তিন দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘাটে আটকা পড়া দর্শনা ডিলাক্স নামে একটি বাসের সুপারভাইজার জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে ফেরিঘাটে পৌঁছে আটকা পড়েন। এরপর গতকাল সকাল ৯ পর্যন্ত একই জায়গায় আটকে ছিলেন।
শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধের পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। গত বুধবার রাত আড়াইটা থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গতকাল সকাল ৯টার দিকে কুয়াশার তীব্রতা কমে গেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাফায়েত আহমেদ বলেন, ‘মধ্যরাত কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে কাছে থাকা কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে সকালে কুয়াশার তীব্রতা কমে গেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এ রুটে চারটি মিডিয়াম ফেরি দিয়ে অল্পসংখ্যক ছোট যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।’
বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি নৌরুটে গতকাল সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ ছিল।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা