চীনের সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে সৌদি আরব। ইন্টেল কোম্পানি ও সরকারি স্যাটেলাইটের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, সৌদি আরব যে চীনের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার পরিবর্তে তাদের সহায়তায় নিজস্ব ব্যবস্থায় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির কাজ শুরু করতে যাচ্ছে, তার বেশ কিছু প্রমাণ তারা ইতিমধ্যে পেয়েছে।
গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদি আরব তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের কর্মসূচি এগিয়ে নিতে চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি অবশ্য ২০১৯ সালেই এক প্রতিবেদনে একই তথ্য দিয়েছিল। সে সময় সিএনএন দাবি করেছিল, সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। চীনের সহায়তায় নিজেরাই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে (ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম) সরাসরি সাহায্য করছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা এর প্রমাণও পেয়েছেন। বিষয়টি সত্যি হলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের তিন দশকের কৌশল হুমকির মুখে পড়বে।
সে সময় ঘটনাটি প্রকাশ না করায় সমালোচনার মুখে পড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কংগ্রেসের কাছে বিষয়টি গোপন রাখায় মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কতটা সদিচ্ছা আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে কংগ্রেস সিনেটরদের মধ্যে। অনেক সিনেটর বলেন, সৌদি আরবের এমন পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীরব অনুমোদনও আছে। কারণ ইরানকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এ কৌশল নিয়ে থাকতে পারে। এ জন্য মার্কিন কংগ্রেসের বিরোধিতা সত্ত্বেও সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে শত শত কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১৯ সালের সেই প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক আড়াই বছর পর গতকাল এই বিষয়ে ফের আরেকটি প্রতিবেদন করল সিএনএন। গতকালের প্রতিবেদনে সিএনএন বলেছে, উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিগুলোতে দেখা গেছে, সৌদি আরব তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে এবং এসব মিসাইলের সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য টেস্টিং সাইটও তৈরি করেছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির খবর সত্যি হলে তা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে এবং সৌদিদের শীর্ষ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষাকে রোধ করার জন্য বাইডেন প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য আরব দেশগুলো ইরানের এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও চাপ প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করেছে।
এজন্য ওই অঞ্চলে সৌদি আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, যুদ্ধবিমান পেয়েই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট সৌদি আরব। তাই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে মাথা হয়তো তারা ঘামাবে না।
২০১৯ সালের শুরুতেই ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ও এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, নিজের দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকেন্দ্র তৈরি করে ফেলেছে দেশটি। আর এ নির্মাণকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে চীনা প্রযুক্তি। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ১৪৫ মাইল দূরের আল-ওয়াতাহতে তৈরি করা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। সে সময় সৌদি আরব কিংবা যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের অস্ত্র বাণিজ্য আছে।