ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর ও কবর দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন মোট ১০ জনের মৃতদেহ স্বজনরা শনাক্ত করে নিয়ে গেছে আর বাকি ২৩ জনকে দাফন করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লঞ্চের আরও অন্তত ৭০ যাত্রী জন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি আজ সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ওই কমিটির সদস্য ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল আলম।
সাত সদস্যের এ কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিও আছেন।
কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে রাতে বরিশাল হয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অবস্থানের সময় রাত তিনটার নাগাদ লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়।
পরে পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহু যাত্রী জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। বেশ কিছু যাত্রীর সন্ধান এখনো মেলেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি বরগুনাগামী হওয়ায় ৩২টি মৃতদেহ সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর মধ্যে এ পর্যন্ত মোট দশজনের মৃতদেহ তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন। আরও দুই শিশুর মৃতদেহ তাদের স্বজনরা শনাক্ত করার পর সেগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিযুষ চন্দ্র দে।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল আলম বিবিসি বাংলাকে জানান, ‘মরদেহগুলো শনাক্ত করার মতো অবস্থায় ছিল না, তাই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। পরে কারও ডিএনএ'র সাথে মিলে গেলে সে অনুযায়ী কবর দেখিয়ে দেয়া হবে।’