ঝালকাঠিতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া অভিযান ১০ লঞ্চে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে বরগুনার পাথরঘাটায় ফিরছিলেন হাফেজ মো. তুহিন। লঞ্চে আগুন লেগে যখন সবাই দিক বেদিক ছোটাছুটি করছিল তখন জীবন বাঁচাতে আড়াই বছরের শিশু সন্তান তাবাসসুম ও স্ত্রী নিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তুহিন। তারা দুজনে তীরে উঠতে পারলেও আদরের সন্তানকে আর তীরে ওঠাতে পারেননি। নিজের অজান্তে বাবা তুহিনের হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল তাবাসসুম।
সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীকে তীরে রেখে খোঁজা শুরু করেন তিনি। এ দিকে লঞ্চ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ায় স্ত্রীর অবস্থায়ও গুরুতর, কথা বলার শক্তি নেই তার। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। তুহিন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত শিশু তাবাসসুমকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে অবশেষে বরগুনা সদর হাসপাতাল মর্গে তাবাসসুমের খোঁজে আসে তার স্বজনেরা। বরগুনা সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে গিয়ে জানতে পারে শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো বরগুনার সার্কিট হাউস মাঠে জানাজা দিয়ে সদরের পোটকাখালীতে দাফনের জন্য নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে স্বজনরা কফিন থেকে শনাক্ত করে শিশু তাবাসসুমের মরদেহ শনাক্ত করেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
মরদেহ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানার পর তাবাসসুমের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, শিশু তাবাসসুমের মরদেহ শনাক্ত করতে পেরেছে পরিবার। তাই সরকারিভাবে দাফন না করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।