মাগুরার শালিখা উপজেলায় শরিফুল মোল্যা (৫৫) নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের শাবলাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শরিফুল শাবলাট গ্রামের ইব্রাহিম মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় শালিখা উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত সিরাজ মণ্ডল। এরপর থেকে তার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমানের। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিরাজ মণ্ডলের সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মহব্বত মোল্যা ইউনিয়নের কামারপাড়ায় একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। সেখানে গত ২৮ নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে শামছুর রহমানের সমর্থক আইয়ুব হোসেনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
এ সময় মহব্বত মোল্যাকে কুপিয়ে জখম করে আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে তাকে বাঁচাতে শরিফুল মোল্যাসহ অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা শরিফুল, মহব্বত, বদর মোল্যা, আনিস মোল্যা, রাজিবসহ ১১ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরিফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই ওমর আলী জানান, শামছুর রহমানের সমর্থক আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে আইয়ুব হোসেন এবং পরাজিত প্রার্থী শামছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শালিখা থানার ওসি তারেক বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরবর্তী সংঘাত এড়াতে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামে নৌকার প্রার্থীর ওপর স্বতন্ত্রদের হামলায় আহত ১৬ : চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহতরা হলেন জমির উদ্দীন (২৫), আনোয়ার হোসেন (৫০), নজরুল ইসলাম (৪৫), ফখরুল (৩৫), জাহাঙ্গীর (২৮), নুরুল আফসার (৩০), মোছলেম উদ্দীন (৪২), ইলিয়াছ কাঞ্চন (৪৮), হেলাল উদ্দিন (৪০), কামাল উদ্দিন (২৫), রাশেদ (৩০), সাজ্জাদ (২০), শাহাদাত হোসেন (১৯), মোজাম্মেল হক (২১), জসিম উদ্দিন (২০) ও মো. শাহেদ (২২)। আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জমির উদ্দীনকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আলীম বিকেল ৪টার দিকে গণসংযোগ শেষে চাপাছড়ি বাজারে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমকে ধোপাছড়ি বাজারে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা মারধর করেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে মোরশেদের সমর্থকরা এসে নৌকার সমর্থকদের ওপর চড়াও হন। উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৬ জন আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আবদুল আলীমের অভিযোগ, ‘ইশতেহার ঘোষণার পরপরই মোরশেদের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমাকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে আমার নেতাকর্মী এসে উদ্ধার করে।’
তবে মোরশেদ আলম বলেন, ‘নৌকার সমর্থকরা বিনা উসকানিতে আমার পাঁচ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে।’
ধোপাছড়ি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আতাউল হক চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।