ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে চলন্ত অবস্থায় বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ১৫ জনের কেউই শঙ্কামুক্ত নন। শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় তারা সবাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। একই ঘটনায় দগ্ধ ও আহত আরও ৪৬ জনকে বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে সাত সদস্যের একটি মেডিকেল টিম এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টায় ওই লঞ্চে আগুন ধরে এ পর্যন্ত ৩৮ জন মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বার্ন ইনস্টিটিউটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় দগ্ধ ২১ জন এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে হাবীব খান (৪৫) নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান। পাঁচজন শঙ্কামুক্ত হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দুজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। বাকিদের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটে যারা ভর্তি আছেন, তারা হলেন জেসমিন আক্তার (৩৫), বাচ্চু মিয়া (৫১), ইশরাত জাহান (২২), শাহিনুর খাতুন (৪৫), মারুফা (৪৮), সেলিম রেজা (৪৫), লামিয়া (১৩), তামিম হাসান (৮), মমতাজ (৭০), মো. রাসেল (৩৮), বঙ্কিম মজুমদার (৬০), মনিকা রানী (৪০), গোলাম রাব্বি (২০), খাদিজা (২৭) ও বশির (৩৫)। তাদের মধ্যে মারুফা ও শাহিনুর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। তাদের শরীরের ৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে।
গতকাল শনিবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের জানান, ভর্তি রোগীদের কাউকেই শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। কারণ, লঞ্চের বদ্ধ ঘরে আটকা পড়ায় আগুনে তাদের সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।
ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এস এম আইউব হোসেন জানান, বিকাশ মজুমদার (১৬) নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক (প্লাস্টিক সার্জারি) ডা. নুরুল আলম, ডা. মাসরুর উর রহমান, রেজিস্ট্রার ডা. মোরশেদ কামাল, ডা. মৃদুল কান্তি সরকার, ডা. শাওন বিন রহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ডা. আল মোনতাসির বিল্লাহ ও ডা. ইসতিয়াক সুলতান।
ডা. নুরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, জরুরি অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের চিকিৎসা দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
শের-ই বাংলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত লঞ্চের আগুনে দগ্ধ ৮১ জনকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে গুরুতর ১৯ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পথে এক শিশু মারা যায়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ১৬ জন রোগী বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল সকাল পর্যন্ত শের-ই বাংলায় চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৬ জন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক ৩ জন আইসিইউতে, হাত-পা ভেঙে যাওয়া ৫ জন অর্থোপেডিক্স বিভাগে, ৫ জন শিশুসহ ৩৮ জন সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।