কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের মুক্তির নেতা ডেসমন্ড টুটু

কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। বিশ্বের নিপীড়িত-অত্যাচারিত মানুষের জন্য কথা বলেছেন।বর্ণবাদ প্রথা বিলোপে ভূমিকা রাখায় পান শান্তিতে নোবেল। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

ডেসমন্ড টুটু

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবাদী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষের অদম্য ব্যক্তিত্ব তাকে করেছে মহীয়ান। বিশ্বজুড়ে বন্ধু ও অনুরাগীর অভাব ছিল না তার। শ্বেতাঙ্গবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামী কৃষ্ণাঙ্গ টুটু বারবার পরিষ্কারভাবে জানান, তার লড়াই ধর্মীয়, রাজনৈতিক নয়। তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি তিনি। জাতিগত নিপীড়িত মানুষের পক্ষে বারবার দাঁড়িয়েছেন টুটু। বন্ধুভাবাপন্ন ও রসিক এই মানুষটি ন্যায়ের পক্ষে আজীবন লড়াই করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বৈশ্বিক শান্তির জন্য লড়েছেন তিনি। স্বদেশে বর্ণবাদ প্রথার ইতি টানতে আপ্রাণ কাজ করে যান শান্তিতে নোবেলজয়ী টুটু। দীর্ঘদিন ধরে মূত্রথলির ক্যানসারে ভুগে গতকাল রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী কেইপ টাউনে ৯০ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘দ্য আর্চ’ পরিচিত টুটু।

১৯৪৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে শে^তাঙ্গ সংখ্যালঘুরা বর্ণবাদী নীতি গ্রহণ করে। এর প্রতিবাদে আন্দোলন করেন দেশটির বর্ণবাদবিরোধী আইকন ও  সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। টুটু ছিলেন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বাধীন সেই আন্দোলনের সামনের সারির অন্যতম প্রধান শক্তি।

জীবন

১৯৩১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন প্রদেশ ট্রান্সভালে জন্ম হয় ডেসমন্ড টুটুর। বাবা ছিলেন শিক্ষক। বড় হয়ে টুটুও ছাত্র পড়িয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন। তবে বেশিদিন তা করতে পারেননি। ১৯৫৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের স্কুলে আলাদা বসানোর আইন হলে শিক্ষকতা  ছেড়ে দেন টুটু। এরপর গির্জায় যোগ দেন তিনি। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ যাজক প্রভাবিত করে তাকে; বিশেষ করে বর্ণবাদবিরোধী বিশপ ট্রেভর হাডলস্টটের নৈতিক অবস্থান ব্যাপকভাবে নাড়া দেয় টুটুকে। 

১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সাল এই তিন বছর বিশপ অব লেসোথো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন টুটু। বিশপ অব জোহানেসবার্গ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট বিশপ অব জোহানেসবার্গ ছিলেন। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েটো অঞ্চলের এক স্থানে গির্জার প্রধান যাজক ছিলেন টুটু।   যাজক থাকা অবস্থাতেই দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তিনি। ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সাউথ আফ্রিকান কাউন্সিল অব চার্চেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টুটু। সে সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও সরব হন তিনি। ১৯৭৬ সালে সোয়েটোতে অভ্যুত্থান শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই সংস্কারবাদী প্রচারক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের কাছে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন টুটু।

বর্ণবাদ প্রথা বিলোপের লড়াইয়ে অবদান রাখায় ১৯৮৪ সালে শান্তিতে নোবেল পান ডেসমন্ড টুটু। এই নোবেল পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শাসকদের গালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চপেটাঘাত হিসেবে দেখা হয়। ১৯৮৬ সালে আর্চবিশপ অব কেপটাউন হন টুটু। তার অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবেরি ড. রবার্ট রানসি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অ্যাঙ্গলিকান চার্চের প্রধান থাকা অবস্থাতেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রচার জারি রাখেন টুটু। ১৯৮৮ সালে তিনি ঘোষণা দেন, ‘সরকারের বুট জুতা মোছার পাপস হিসেবে বিবেচিত হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি আমরা।’ এ ঘটনার ছয় মাস পর জেলে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচন বয়কট করার আহ্বান জানান টুটু। ১৯৮৯ সালে নিষিদ্ধ এক সমাবেশ ছেড়ে যেতে না চাইলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা দিতে আর্চবিশপ টুটুর আহ্বান পুরো বিশ্বে সে সময় আলোড়ন তোলে। টুটুই রেইনবো ন্যাশন পরিভাষার জনক। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ যুগের পরবর্তী সময়ে দেশটিতে বিভিন্ন জাতির সমন্বয় ঘটানোর লক্ষ্যে এই পরিভাষা ব্যবহার করেন তিনি। তবে জীবনের শেষ সময়ে তার আক্ষেপ ছিল, সব জাতি-বর্ণ নিয়ে যেভাবে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার বাস্তবায়ন হয়নি।    

উদ্ধার

১৯৮৫ সালে টুটুসহ অন্য বিশপরা সাহসিকতার সঙ্গে সন্দেহভাজন এক পুলিশের তথ্যদাতাকে উদ্ধার করেন। জোহানেসবার্গে ওই তথ্যদাতাকে মারধর ও প্রায় পুড়িয়ে দিচ্ছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। টুটু ও তার সঙ্গের যাজকরা জনতাকে ঠেলে রক্তাক্ত, প্রায় অজ্ঞান সেই তথ্যদাতাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। ওই মুহূর্তে ওই ব্যক্তিকে সেদিন না বাঁচানো হলে পুড়েই মারা যেতেন তিনি। মারধরে মারাত্মক আহত তথ্যদাতাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করার পর হামলাকারী জনতাকে ধমক দেন টুটু। চলমান ন্যায়সংগত লড়াইয়ে তাদের যুক্তিসংগত কাজ করার কথা বলেন তিনি।

১৯৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হন ফ্রেডেরিক উইলেম ডি ক্লার্ক। ক্ষমতায় বসার পরপরই বেশ কিছু সংস্কারমূলক কাজের ঘোষণা দেন তিনি। তার এই উদ্যোগকে গভীরভাবে স্বাগত জানান টুটু। এসব সংস্কারকাজের মধ্যে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা, ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেলসন ম্যান্ডেলাকে মুক্ত করা ছিল অন্যতম। সে সময় রাজনৈতিক সংগঠনে গির্জার যাজকদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন টুটু। তার এই ঘোষণা অন্য গির্জার যাজকদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু

নিজের মত প্রকাশে কখনোই ভীত ছিলেন না ডেসমন্ড টুটু। ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরে যান তিনি। ব্রিটেনকে সেখানে ‘দ্বিজাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। টুটু জানান, ব্রিটেনের কারাগারে বিপুলসংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে রাখা হয়েছে। এরপর টুটু বড়দিনের সময় হোলি ল্যান্ডে তীর্থযাত্রায় যান। সেখানে ইসরায়েলি শাসকদের ওপর ব্যাপক ক্ষিপ্ত হন তিনি। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনা করেন টুটু। তিনি জানান, ইহুদিরা একসময় অকথ্য নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যায়। সেই নির্যাতিত ইহুদিরা কীভাবে ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন করতে পারে, তা তিনি বুঝে উঠতে পারেন না। নেলসন ম্যান্ডেলার একান্ত ভক্ত ছিলেন টুটু। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে ম্যান্ডেলার সহিংসতার পথ অনুসরণ করার নীতির সমর্থক ছিলেন না তিনি। এ ছাড়া রাজনৈতিক অন্যান্য ইস্যুতেও মতপার্থক্য ছিল তাদের মধ্যে। ১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের প্রধান হতে টুটুকে আহ্বান জানান ম্যান্ডেলা। এই কমিশনের কাজ ছিল, বর্ণবাদ আমলে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ জড়ো করা এবং যেসব অপরাধী তাদের অপরাধ কমিশনের কাছে স্বীকার করবেন, তারা সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য কি না, তার সুপারিশ করা। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সাবেক নেতাদের কড়া সমালোচনা করেন টুটু। তার ভাষ্য, সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তারা মিথ্যা বলেছেন। একই সঙ্গে বর্ণবাদবিরোধী লড়াই করা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ আনেন তিনি। শ্বেতাঙ্গ নেতারা ও এএনসি উভয়ই টুটুর তদন্ত প্রতিবেদন অস্বীকার করে।       

কৃষ্ণাঙ্গ শাসকদের সমালোচনা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ যুগে নিপীড়নের শিকার মানুষ গভীরভাবে আন্দোলিত করে টুটুকে। আবার দেশটির নতুন কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের সমালোচনা করতেও পিছপা হতেন না তিনি। প্রেসিডেন্ট থাবো এমবেকি নেতৃত্বাধীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে নাস্তানাবুদ করেন টুটু। তার ভাষ্য ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর কিছু করছে না আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস। শ্বেতাঙ্গ শাসকের বিদায় হয়েছে কিন্তু মুষ্টিমেয় নতুন কৃষ্ণাঙ্গ রাজনৈতিক এলিটদের হাতে বিপুল সম্পদ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। যৌন অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিক জ্যাকব জুমাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী না হওয়ারও আহ্বান জানান টুটু।  

এ ছাড়া জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের কর্মকাণ্ডেরও নিন্দা জানান টুটু। মুগাবেকে একবার তিনি ‘আফ্রিকার একনায়কের কার্টুন চরিত্র’ বলে অভিহিত করেন। জবাবে মুগাবে টুটুকে ‘শয়তান’ হিসেবে আখ্যা দেন। নিজের অ্যাঙ্গলিকান গির্জার বিভিন্ন কার্যকলাপের সমালোচনা করতে ছাড়েননি টুটু; বিশেষ করে সমকামী বিশপদের বিষয়ে আদেশকে ঘিরে বাগ্বিতণ্ডার পরবর্তী সময়ে ওই গির্জার সমালোচনা করেন তিনি।    

বরাবরের বিদ্রোহী 

বৈশ্বিক দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেয়ে সমকামিতার দিকে গির্জার ঝোঁকের সমালোচনা করে ডেসমন্ড টুটু বলেছিলেন, ‘ঈশ^র কাঁদছেন।’ ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ড সফরের সময়ও দারিদ্র্য নিয়ে কথা বলেন তিনি। অর্থনৈতিক মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশে সহায়তা কমানোর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ভাবতে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ওই বছরই জনজীবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেন টুটু। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘বিমানবন্দর ও হোটেলে সময় কাটানোর চেয়ে চা পান করে ও ক্রিকেট খেলা দেখে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই।’ কিন্তু প্রতিবাদী মন তা মানবে কেন? ২০১৪ সালে ইউথেনেশিয়াকে (দুরারোগ্য ও যন্ত্রণাদায়ক অসুখে ভোগা রোগীদের কোনো যন্ত্রণা না দিয়ে হত্যা করা) সমর্থন করেন তিনি। তার ভাষ্য, যেকোনো মূল্যে জীবন যাপন করার মানে হয় না। গির্জার অনেক যাজকের মতের বিপরীত টুটুর মত ছিল, মৃত্যুকে যেকোনো সময় আলিঙ্গনের অধিকার মানুষের রয়েছে। তিনি জানান, তার কাছের বন্ধু ও সহযোদ্ধা ম্যান্ডেলা দীর্ঘদিন রোগে ভুগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। ম্যান্ডেলার মতো মানুষের এমন মৃত্যু কাম্য নয়, এটি মৃত্যুপথযাত্রীর জন্য অপমানজনক।        

২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের নেতা অং সান সু চির কড়া সমালোচনা করেন টুটু। সে সময় তিনি বলেন, ‘ন্যায়ের প্রতীক হতে চাওয়া সু চির দেশে মুসলমান সংখ্যালঘুরা জাতিগত নিধনের মুখোমুখি।’ সেই বছরই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন টুটু। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এহেন উসকানি ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে টুইটারে তিনি ফের লেখেন, ‘ঈশ্বর কাঁদছেন।’

শ্রদ্ধা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘আইকনিক আধ্যাত্মিক নেতা, বর্ণবাদবিরোধী কর্মী ও বৈশ্বিক মানবাধিকারের পক্ষে প্রচারক ছিলেন টুটু।’ তিনি বলেন, ‘টুটুর মতো দেশপ্রেমিক আর নেই। নীতিপরায়ণ ও বাস্তববাদী এই নেতা বাইবেলের বাণী প্রমাণ করেছেন; যেখানে বলা হয়েছে, কর্ম ব্যতীত বিশ্বাসের কোনো মূল্য নেই। বর্ণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে টুটু ছিলেন অজেয়। দুনিয়ার সব নিপীড়িত ও অত্যাচারিত মানুষের কষ্ট তাকে ভাবিয়েছে, ব্যথিত করেছে।’ টুটুর মৃত্যুতে অন্যদের মতো শ্রদ্ধা জানিয়েছে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘দেশে ও দেশের বাইরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টুটুর অবদান মানবসমাজের মুক্তি নিয়ে তার সামগ্রিক চিন্তার সঙ্গেই কেবল যায়। টুটু একজন অসাধারণ মানুষ, নেতা ও পথপ্রদর্শক।’ টুটুর জীবনী লেখক স্টিভেন গিশ বলেন, ‘তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মার্টিন লুথার কিং। যাজক টুটু অহিংস পথে ন্যায় ও সমতার জন্য কাজ করেছেন। তিনি কখনো অত্যাচারীকে ঘৃণা করতেন না। সব সময় আলোচনায় বিশ্বাস রাখতেন। মানুষের নৈতিক চেতনা জাগানোর চেষ্টা করতেন।’