কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের রেকর্ড

করোনার স্থবিরতার মধ্যেও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। চলতি বছর এরই মধ্যে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ সাড়ে ৩১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কভিডের কারণে ২০২০ সালে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ধাক্কা খেলেও চলতি বছর তা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের কারণে বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। ফলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংসহ বন্দরের সব অপারেশনাল কর্মকা-ে গতিশীলতা বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩১ লাখ ৬২ হাজার টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এখন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩২ লাখ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করাই লক্ষ্য।

বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেশ কিছু অত্যাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংযোজন হওয়ায় বন্দরের অপারেশনাল কাজে গতিশীলতা আগের তুলনায় বেড়েছে। এক সময় আমদানি পণ্যবাহী জাহাজকে বার্থিং পেতে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন পণ্য খালাসের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অপেক্ষা করতে হয় না। ফলে সিঙ্গাপুর, কলম্বো, চায়নাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে কভিড পরিস্থিতিতে বড় ধরনের জাহাজজট থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর ছিল পুরোপুরি জটমুক্ত। এসব বন্দরে জট না থাকলে চট্টগ্রামে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ আরও বাড়ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় ২০১৯ সালে। ওই বছর ৩০ লাখ ৮৮ হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড করেছিল বন্দর। ফলে শিপিং বিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম লয়েডস লিস্টের বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বন্দরের তালিকায় কন্টেইনার পোর্ট হিসেবে আগের বছরের চেয়ে ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৮তম স্থানে উঠে এসেছিল। ২০২০ সালে কভিডের ধাক্কায় চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ কমে। ওই বছর মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় ২৮ লাখ ৩৯ হাজার টিইইউস। এতে ওই বছর লয়েডস লিস্টের তালিকায় ৯ ধাপ পিছিয়ে পড়ে এই বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ অর্জনের কৃতিত্বের দাবিদার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্টেকহোল্ডাররা। করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রাণ হারালেও একদিনের জন্য বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। নতুন নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, ইয়ার্ড সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে স্টেকহোল্ডাররাও সবসময় আমাদের সহযোগিতা করেছে। ফলে জাহাজের আগমন-নিগর্মন সময় অনেক কমেছে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যে স্থবিরতা চলতি বছর অনেকটা কেটেছে। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে বাকি দিনগুলো স্বাভাবিক গতিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হলে আমরা অবশ্যই ৩২ লাখ টিইউএস হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারব।