যুক্তরাষ্ট্র থেকে রিজার্ভ স্থানান্তর দাবিতে নোটিস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ‘নিরাপদ দেশগুলোতে’ স্থানান্তরের দাবিতে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই নোটিস পাঠান। এতে অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা ও জনগণকে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচানোর জন্য ওই নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিসে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস দমন, মাদক ধ্বংস ও মানব পাচার রোধে র‌্যাবের অসামান্য অবদান রয়েছে। যদিও র‌্যাবের বিভিন্ন অভিযান চলাকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভুল ও কিছু মানবীয় ভুলের কারণে কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ড হয়েছে। তথাপি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।’

বর্তমানে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জানিয়ে নোটিসে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘যার দরুন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের একটি অংশবিশেষ।’

বিভিন্ন দেশকে চাপে রাখতে তাদের অর্থ সম্পদ ফ্রিজিং ও বাজেয়াপ্ত করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বিস্তার লাভ করছে তাতে নিকট ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত বাংলাদেশের ফরেন রিজার্ভ ফ্রিজিং/বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এমন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং বাংলাদেশের জনগণকে  অবর্ণনীয় কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে।’

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় ন্যূনতম কিছু রিজার্ভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ‘নিরাপদ দেশে’ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে নোটিসে বলা হয়, ‘যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বেশি সেসব দেশের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করতে হবে।’

নোটিসে ৩০ দিনের সময় দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের রিজার্ভ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।