করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কিনতে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনকে সোয়া ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ ডিসেম্বর নতুন করে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
বরাদ্দ করা অর্থে সিটি করপোরেশনগুলো মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনে তা বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করবে। সরকারের বরাদ্দ করা এ অর্থ নির্ধারিত কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। আবার এ অর্থ ব্যয় করতে না পারলে তা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে। অর্থ ব্যয়ের জন্য আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে সিটি করপোরেশনের মেয়র অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের বাজেটের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ‘সিটি করপোরেশনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ খাত থেকে কভিড-১৯ মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনগুলোকে অর্থ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বরাদ্দ করা অর্থে সিটি করপোরেশনগুলো মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনে তা বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করবে। এজন্য মোট ১২টি সিটি করপোরেশনেক ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১ কোটি ২৫ লাখ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১ কোটি ২৫ লাখ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ১ কোটি, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ১ কোটি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ৮৫ লাখ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ৯০ লাখ, খুলনা সিটি করপোরেশন ৮৫ লাখ, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ৮৫ লাখ, বরিশাল সিটি করপোরেশন ৮৫ লাখ, সিলেট সিটি করপোরেশন ৮৫ লাখ, রংপুর সিটি করপোরেশন ৮০ লাখ ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ৮০ লাখ টাকা পেয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের (সিটি করপোরেশন-১) উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অর্থ বরাদ্দের আদেশে বলা হয়েছে, এ অর্থ ব্যয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ অনুসরণসহ যাবতীয় আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। এ অর্থ ব্যয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বিল পরিশোধকারী কর্র্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে এবং আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট মেয়র অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো কারণে অর্থ ব্যয় করতে ব্যর্থ হলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।