রাস্তার কাজে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এর ফলে রাস্তার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সঙ্গে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরের যোগাযোগ সহজ করতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হচ্ছে। বর্তমানে সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর থেকে সাদুল্লাপুর হয়ে ধাপেরহাট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে রংপুরের মেসার্স খাইরুল কবির রানা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কের উভয়পাশে ৬ ফুট প্রশস্ত করার ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। শর্তমতে, এ কাজে শূন্য দশমিক আট এফএম (ফাইনেস মডুলার্স) বালু দিতে হবে।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিমধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে যে বালু দেওয়া হয়েছে, তা কাদামাটি মিশ্রিত খুবই নিম্নমানের। এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ বালু সড়ক ও জনপথ বিভাগের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। ওই দপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, এখানে যে বালু ব্যবহার করা হয়েছে, তা শূন্য দশমিক তিন থেকে চার এফএমের বেশি হবে না।

সাদুল্লাপুর উপজেলার পাঠানোছা গ্রামের কলেজছাত্র মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই সড়কটির কাজ হচ্ছে। কাদামাটি মিশ্রিত বালু হওয়ায় বাতাসে বালু উড়ে যাচ্ছে। যাতায়াতেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ করায় কয়েকজন গিয়ে বাধা দেয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব বলেন, ‘সড়কটি দিয়ে সুন্দরগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের যানবাহন চলাচল করবে। এতে ঢাকার সঙ্গে ৬০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। কিন্তু নিম্নমানের বালু ব্যবহারের কারণে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যাবে। সরকারের টাকা অপচয় হবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালকসহ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। তারা ইতিমধ্যে ভরাট করা ১০ কিলোমিটার সড়ক থেকেই নিম্নমানের বালু সরাতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। কিন্তু বালু পরিবর্তন না করেই নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ করছেন ঠিকাদার।

জানতে চাইলে ঠিকাদার খাইরুল কবির রানা দাবি করেন, ‘যে বালু দেওয়া হয়েছে তা আর দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট পরিমাপের বালু দিয়েই কাজ করা হবে।’

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, লোকদেখানো ও ছবি তুলে কর্তৃপক্ষকে দেখানোর জন্য ১০ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১০০ মিটার জায়গায় বালু পরিবর্তন করা হয়। অবশিষ্ট সড়কে নিম্নমানের বালুই রাখা হয়েছে।

উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শূন্য দশমিক আট এফএমের বালু দূর থেকে আনলে ব্যয় বেড়ে যাবে বিধায় ঠিকাদার গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম ও উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগসাজশে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করছেন।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ‘ঠিকাদারকে বালু পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট বালু দিয়েই কাজ করতে হবে।’

গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঠিকাদারকে নিম্নমানের বালু ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে।’