করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে সীমিত পরিসরে টিকার তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল প্রথম দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে ১ হাজার ৩৫৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৬ ডোজ ও বাকি ২৯৯ ডোজ ঢাকার বাইরে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ঢাকার ১১টি কেন্দ্রে সীমিত সংখ্যক বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিয়েছে শ্যামলীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল। সেখানে দেওয়া হয়েছে ৪০৩ ডোজ। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০৩ ডোজ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১৩৬ ডোজ, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারিতে ১০০ ডোজ, চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ৫৪ ডোজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ৩৮ ডোজ, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ৩০, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৩০ ডোজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ ডোজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট বুস্টার ডোজ পেলেন ১ হাজার ৪০৯ জন।
এর আগে ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়। সেদিন ছয় মন্ত্রীসহ কয়েকজন ফ্রন্টলাইনার বুস্টার ডোজ টিকা নেন।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ও করোনা টিকা বিতরণ এবং ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, বুস্টার ডোজ দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে গতকাল থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে টিকার পরিসর বাড়বে। ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী টিকা দেবে।
এই কর্মকর্তা জানান, এখন ৬০ বছরের বেশি বয়সী ও করোনার ফ্রন্টলাইনারদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে না। যারা ইতিমধ্যেই দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন এবং ৬ মাস পার হয়েছে, তাদের মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা চলে যাবে। দুই ডোজ যেখান থেকে নিয়েছেন, বুস্টার ডোজও সেই কেন্দ্র থেকেই নিতে হবে। বুস্টার ডোজ হিসেবে মিশ্র টিকা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ফাইজার টিকা দেওয়া হচ্ছে।