খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক মো. সেলিম হোসেনের (৩৮) মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমাদসহ পাঁচ সদস্য উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সাজ্জাদ হোসেনের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মহিউদ্দিন আহমাদ বলেন, ‘আমরা সার্বিক সব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত কার্যক্রম করা হয়েছে। ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ১৩টি সংযুক্তি রয়েছে।’
গত ৩০ নভেম্বর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। অভিযোগ ওঠে, মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়। বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড। অধ্যাপক সেলিমের পরিবারও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে। সেলিমের মৃত্যুর পরদিন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার লাশ কবর তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়।
প্রফেসর সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ নয় ছাত্রকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন। পাশাপাশি ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ এবং শিক্ষকের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. আলহাজ উদ্দীন, সদস্য প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার দেবাশীষ বসাক এবং কেএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মো. শাহাবুদ্দীন।
৩ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও ৫ ডিসেম্বর থেকে তদন্তকাজ শুরু হয়। এরপর ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় কমিটি আরও ১০ দিনের সময় চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৭ দিনের সময় বেঁধে দেয়। সেই সময় পেরিয়ে গেলে ২৩ ডিসেম্বর বিশ^বিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অতিদ্রুত প্রফেসর সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দাখিল করার জন্য বলা হয়। পাশাপাশি বিশ^বিদ্যালয় বন্ধের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, আগামী ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং ৯ জানুয়ারি থেকে সব একাডেমিক কার্যক্রম যথারীতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা স্যারের মৃত্যুর পর ৫টি দাবি করেছিলাম। তার মধ্যে প্রথম দাবি ছিল সন্দেহজনকভাবে জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার করা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ সেটি করেছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। এরপর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, শিক্ষকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো আসেনি। সময় লাগবে। মামলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি।