কক্সবাজারে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ

হোতা আশিকসহ গ্রেপ্তার ৩

কক্সবাজারের কলাতলীতে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ‘মামস’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় মূল হোতা মোহাম্মদ আশিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলো মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার কামরুল ও ‘মামস গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহীন। ধর্ষণের মূল হোতা আশিককে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার জানান, কক্সবাজারে হোটেলে দুদিন ধরে স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করলে আবার ধর্ষণ করে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছিল মোহাম্মদ আশিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশিক র‌্যাবকে এ তথ্য দিয়েছে।

খায়রুল ইসলাম সরকার আরও জানান, হোটেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর র‌্যাবের একটি দল সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আশিককে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পৃথক স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার কামরুল ও মামস গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহীনকে। ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী বাড়িতে ফেরার সময় মো. আশিকসহ ৩-৪ যুবক তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে (ভুক্তভোগী ছাত্রী) শহরের হোটেল-মোটেল জোনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত মামস গেস্ট হাউজে নিয়ে যায়। পরে ওই স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা চারজনসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল।