রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার চায় বিএনএফ

নির্বাচনকে অবাধ নিরপেক্ষ এবং অর্থবহ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে চার দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট।

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে চলমান সংলাপের ষষ্ঠ দিনে গতকাল বুধবার বিকেলে বিএনএফের প্রসিডেন্ট এস এম আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনের দরবার হলে সংলাপে অংশ নেয়।

পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, বিএনএফের নেতৃবৃন্দ সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তারা অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। এ কমিটিতে অনধিক পাঁচজনকে নিয়োগ করতে তারা নাম প্রস্তাব করেন।

পরে সন্ধ্যায় ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে চার দফা প্রস্তাব পেশ করে। প্রস্তাবনাগুলো হলোÑ সাংবিধানিক পদে থাকা গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ও ইমানদার ব্যক্তিদের মধ্য থেকে অনুসন্ধান কমিটির সদস্য নির্বাচন  করা, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসি গঠনে একটি স্থায়ী আইনি কাঠামো গঠন; সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা করার জন্য ও স্থায়ী আইন করা এবং সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে দলীয়  প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।

নেতৃবৃন্দকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন যাতে গঠন করা যায় সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

গত ২০ ডিসেম্বর প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপে বসেন রাষ্ট্রপতি। এ পর্যন্ত ৮টি দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে।

আরও ৫ দলকে সংলাপের আমন্ত্রণ : নতুন ইসি গঠনের সংলাপের আরও পাঁচটি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামী সোমবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় গণতন্ত্রী পার্টি, ৭টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন; আগামী মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ও সন্ধ্যা ৭টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যার অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংবিধানে ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের কথা উল্লেখ থাকলেও এ সংক্রান্ত আইন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির পর রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেন।