ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। এখন দেশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। আর এর ভিত্তি হলো দেশের বিভিন্ন জেলায় গড়ে ওঠা বিশ্বমানের ৩৯টি হাইটেক পার্ক। মাত্র ১২ বছরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিনবদলের সনদের এ বাস্তবায়ন এখন বিদেশিদের কাছেও বিস্ময়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরা এখন প্রস্তুতি ২০৪১ সালের উন্নত দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে। আর এ স্বপ্নের সূতিকাগার হলো এসব হাইটেক পার্ক। বলা হচ্ছে বাংলাদেশের আইটি খাত একসময় পোশাক রপ্তানি খাতকে ছাড়িয়ে যাবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আয়োজিত ডিজিটাল বাংলাদেশে ট্যুরে দেশের বিভিন্ন জেলার হাইটেক পার্ক সরেজমিন ঘুরে এবং এসব পার্কে আইসিটি খাতের কর্মযজ্ঞ দেখে এবং তরুণদের সাফল্যের গল্প থেকে জানা গেছে, কীভাবে হাইটেক পার্কগুলো হয়ে উঠছে আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন ডানায় উড়ে বেড়ানোর ক্ষেত্র।
আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম বলেন, বাংলাদেশে টেকসই হাইটেক ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম নির্মাণের এখনই উপযুক্ত সময় যেখানে হাইটেক পার্ক অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। কভিড-১৯-পরবর্তী বৈশ্বিক যে মন্দার ঝুঁকি রয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি যথেষ্ট নয়। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে, প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করার তাগিদ দেন সিনিয়র সচিব। তিনি আরও বলেন, দেশে এই মুহূর্তে ১০টি হাইটেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত, এর মধ্যে সম্প্রতি তিনটি পার্ক প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসে উদ্বোধন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে উৎপাদিত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আমার বিশ্বাস, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মেড ইন চায়না বা ভিয়েতনামের মতো বাংলাদেশের তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট, হার্ডড্রাইভে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ দেখা যাবে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের আইটি খাত একসময় পোশাক রপ্তানি খাতকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৫ সালে মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের আইটি পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি আমরা। দেশে বিশ্বমানের ৩৯ হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের আছে। আর তাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লক চেইন, আইওটি, ন্যানো টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, রোবটিকস, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে জোর দিচ্ছি আমরা। উদ্ভাবনের পথে একযোগে কাজ করতে হবে, তাহলেই আমরা এগিয়ে যাব।” তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার, বিদ্যুতের ব্যবহার এবং ট্রানজিস্টর আবিষ্কার ব্যাপক শিল্পায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে মানব সভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছিল বলে ওই তিন ঘটনাকে তিনটি শিল্পবিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এখন বলা হচ্ছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবনের পথ ধরে আসছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, যেখানে বহু প্রযুক্তির এক ফিউশনে ভৌতজগৎ, ডিজিটাল জগৎ আর জীবজগৎ পরস্পরের মধ্যে লীন হয়ে যাচ্ছে।’
জয় লিখেছেন, ‘দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমরা বিশ্বমানের ৩৯টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছি। এসব পার্কে বিনিয়োগে কর অব্যাহতি, বিদেশিদের জন্য শতভাগ মালিকানার নিশ্চয়তা, আয়কর অব্যাহতিসহ নানা সুযোগ আছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যারা ফ্যাক্টরি বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে অবকাঠামো সুবিধা নিতে চান তারা এখানে বিনিয়োগ করতে পারেন। দেশে বর্তমানে স্যামসাংসহ কয়েকটি কোম্পানি পণ্য উৎপাদন শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম কনজ্যুমার মার্কেট, এখানে বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণি রয়েছে। এখানে স্টার্টআপদের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে।’
আইসিটি বিভাগবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘২০০৯ সালের আগে আইসিটি শিল্প থেকে রপ্তানি আয় ছিল ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমানে এ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫ সাল নাগাদ আমরা ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই হাইটেক পার্কে বিশ্বের বিখ্যাত বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কারখানা গড়ে তুলুক এবং একই সঙ্গে এখানে তৈরি পণ্য বিশ্ববাজার দখল করুক।’
বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি : ঢাকার একেবারেই কাছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি (বিএইচটিসি)। ইতিমধ্যে এখানে নকিয়ার মতো বহুজাতিক কোম্পানিসহ বিভিন্ন ১২টি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের শিল্প-কারখানার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান শিগগিরই বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির (বিএইচটিপিএ) কর্মকর্তারা জানান, ১২টি বড় আইসিটি কোম্পানি এ পার্কে বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এখানে কোম্পানির সংখ্যা ছিল পাঁচটি।
বিএইচটিপিএ পরিচালক এএনএম শফিকুল ইসলাম জানান, দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এ পর্যন্ত বিএইচটিসিতে ১২ কোটি ৭ সাত লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৪৬০ জন কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, তারা (কোম্পানিগুলো) স্মার্ট ফোন, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের মতো বায়ো-মেডিকেল সরঞ্জামাদি ও জীবন রক্ষাকারী থেরাপিউটিক সামগ্রী তৈরি করছে।
বিএইচটিপিএ কর্মকর্তারা জানান, ৭০টি দেশি ও বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানি রাজধানীর উপকণ্ঠে এ প্রযুক্তি পার্কে জমি বরাদ্দ পেয়েছে এবং এর মধ্যে ১২টি কোম্পানি এ পার্কে এখন উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি হচ্ছে ৩৫৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা একক কমপ্লেক্সে দেশের এ ধরনের প্রথম সুবিধা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন (এসবিএফ) বিএইচটিসিতে এসবিএফ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে উন্নতমানের কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন সংযোজনের কাজ করছে। এসবিএফ কর্মকর্তা প্রকৌশলী আল-ইমরান সরকার বলেন, ‘প্রতিটি মেশিনের দাম হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। আমদানি করা যেকোনো ডায়ালাইসিস মেশিনের চেয়ে এটির দাম অনেক কম।’ দেখা যাচ্ছে বাজার মূল্য অনুযায়ী, আমদানি করা জীবন রক্ষাকারী এ ধরনের প্রতিটি ডিভাইসের দাম ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা। প্লাজমা উৎপাদনকারী বাংলাদেশি কোম্পানি ওরিক্স বায়োটেক লিমিটেড প্রাথমিকভাবে প্লাজমার বাংলাদেশের মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণের লক্ষ্য নিয়ে বিএইচটিসিতে বরাদ্দ পাওয়া ২৫ একর জমির ওপর তাদের প্ল্যান্ট গড়ে তুলেছে।
বিএইচটিপিএ কর্মকর্তারা জানান, তারা আশা করেন যে এ শিল্প পার্ক ১,২৬৪.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ২০২৫ সাল নাগাদ ৪১ হাজার ২৬৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক : জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে তোলার লক্ষ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কেন্দ্র হিসেবে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ২০১৭ সালে ২৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্ক প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। আইটি পার্ক এলাকাটিকে আইটি খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য আরও উপযোগী করে তোলা হয় এবং এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আইটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই পার্কে বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তার জন্য উদ্যোক্তার অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে, এতে দুই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। কেন্দ্রটি সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কল সেন্টার এবং গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ করার সুবিধা প্রদান করছে। পার্ক কর্র্তৃপক্ষের মতে, মোট ৫৬ জন উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে পার্কটিতে বিনিয়োগ করেছে এবং ৪৬ জন বর্তমানে কাজ করছে। এতে দুই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
যশোর আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাকিব হাসান তার পার্ক অফিসের ২২ জন কর্মচারী নিয়ে আউটসোর্সিং ফার্ম পরিচালনা করছেন, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছে। গত অর্থবছরে তার কোম্পানি প্রায় ২ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আয় করেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের মতো অবকাঠামোগত সুবিধা মূলত উদ্যোক্তাদের জন্য কাজের পরিবেশ তৈরি করেছে এবং নতুন স্টার্টআপ চালু করতে সাহায্য করেছে।
২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জেলা শহরের বেজপাড়া এলাকায় ১২ দশমিক ১২ একর জমির ওপর এই প্রযুক্তি পার্কটি নির্মিত হয়। প্রধানমন্ত্রী পরে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর তার নামে এই পার্কের উদ্বোধন করেন।
গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির (বিএইচটিসি) দেশের প্রথম ন্যাশনাল টায়ার ৪ ডেটা সেন্টারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ প্রদান করে পার্কটিকে তিন পেটাবাইট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টার’ নামে দেশের দ্বিতীয় ডেটা সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ১৫ তলা এমটিবি বিল্ডিং, ১২ তলা থ্রি স্টার মানের ডরমেটরি ভবন, একটি অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার এবং আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ পার্কটিতে ২ লাখ ৩২ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে, এখানে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৫ বর্গফুট জায়গা ইতিমধ্যে ৫৬ উদ্যোক্তাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধী ১৫ তলা এমটিবি ভবনে আরও ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ বর্গফুট জায়গা ভাড়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। একটি বেসরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেড পার্কটি পরিচালনা করছে।
নাটোরের পুরনো জেলখানা আইটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে : জেলার কয়েক দশক আগের একটি পুরনো জেলখানা আইটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং এখন এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত কারিগরি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে আইসিটি জ্ঞানে সমৃদ্ধ দক্ষ মানবসম্পদে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। আইসিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যুবকদের কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার পথ সুগম করতে জেলখানাটি এখন একটি ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ) সূত্র জানায়, জেলার কান্দিভিটা এলাকায় ওই পরিত্যক্ত জেলখানাটির চারটি ভবনকে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, নাটোর প্রজেক্টের আওতায় সংস্কার করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
পাশাপাশি ওই এলাকায় একটি ছয়তলা ভিতের দোতলা ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভবনটিতে ১০টি ইনকিউবেশন সেল বা কক্ষ রয়েছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে দেখা গেছে যে, একটি দোতলা ভবনে তিনটি প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ল্যাবে ২৫টি করে কম্পিউটার এবং ল্যাব-২ জেলখানার পুরুষ কয়েদিদের কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে। ল্যাব-৩ নারী বন্দিদের সেলে স্থাপন করা হয়েছে। দুজন সুদক্ষ প্রশিক্ষক সপ্তাহে তিন দিনে এই কেন্দ্রটিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এইচএসসি পাস যুবক ও যুব-মহিলারা বিনামূল্যে এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন। এখন পর্যন্ত ৮৫০ জন যুবক ও যুব-মহিলা এই ইনকিউবেশন কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। আরটি আইটি কোম্পানি এখান থেকে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে।
শেখ কামাল আইটি সেন্টার হবে সিলিকন ভ্যালি : ভবিষ্যতের প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে যেসব তরুণ উদ্যোক্তা হন্যে হয়ে জায়গা খুঁজছেন উচ্চপ্রযুক্তির আকর্ষণীয় স্টার্টআপের জন্য তাদের কাছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (এসকেআইটিটিআইসি) হতে পারে একটি আদর্শ স্থান। অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে এসকেআইটিটিআইসি কেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ চলছে। বাংলাদেশি অগ্রগামীদের প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে সহায়তার লক্ষ্যেই এসব কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যবসায়ী যারা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের দেশি-বিদেশি কেন্দ্রগুলোতে তাদের উচ্চাকাক্সক্ষার স্বপ্নপূরণ চান তারা এখন নেতৃস্থানীয় শেখ কামাল আইটি সেন্টারেই ভরসা খুঁজছেন। বৈশ্বিক ই-কমার্স খাতকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আইটি খাতের উন্নয়নে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে শেখ কামাল আইটি সেন্টার স্থাপিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে প্রযুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছ থেকে উদারনীতি সমর্থন প্রয়োজন। কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির আওতায় দেশের ৬৪টি জেলায় এ ধরনের ৬৪টি কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এর লক্ষ্য এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীসহ আইটি বিষয়ে একটি দক্ষ জনবল তৈরি করা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক : রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কে (বিএসএমএইচটিপি) ইনকিউবেশন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহরটিকে সিলিকন সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বিএসএমএইচটিপির প্রকল্পের পরিচালক এটিএম ফজলুল হক বলেন, উদ্যোক্তাদের নিয়মিত উদ্যোগকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এখান থেকে তারা বিএসএমএইচটিপিতে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন সিলিকন টাওয়ারে তাদের উদ্যোগ নিয়মিত কোম্পানি হিসেবে সম্প্রসারিত করতে পারবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইনকিউবেশন কেন্দ্রে ১০টি স্টার্টআপ কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেখানে ১২৪ জন লোক কাজ করছে।