সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনামুল (৩০) নামের এক ফার্নিচার শ্রমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে তুষার নামের এক ব্যক্তি। পরে নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা চান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তুষারকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ররিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক এখলাস উদ্দিন।
এর আগে শনিবার রাত ১০ টার দিকে সাভারের ফুলবাড়িয়া শোভাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত এনামুল সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শোভাপুর গ্রামের মিনু মিয়ার ছেলে। তিনি সাভারের নাভানা ফার্নিচারের শো রুমে কাজ করতেন। আহত তাসকিন (১৭) একই এলাকার মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে।
আটক তুষার একই এলাকার মোশাররফের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাভার মডেল থানা-পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে তুষারসহ কয়েকজন অটো রিকশা করে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশে ফার্নিচার শ্রমিক এনামুল ও তাসকিন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তুষার তাদের রাস্তা সাইট দিতে বলেন। এ নিয়ে পরে বাগ্বিতণ্ডা হয়। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে এনামুল ও তাসকিনকে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নেয় তুষার। পরে স্থানীয়দের মারধর থেকে বাঁচতে সেখান থেকে তার ওপর হামলা হয়েছে জানিয়ে তাকে বাঁচানোর জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেন।
তারা আরও জানায়, সাভার থানা-পুলিশ সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তুষারকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয়রা ঘটনার পরপরই এনামুল ও তাসকিনকে উদ্ধার করে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক এনামুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তাসকিনকে লাইভ সাপোর্ট দেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, তুষারের বিরুদ্ধে রাজধানী ও সাভারে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি সড়কে সাইড দেয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে নিহতের বোন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।