করোনার ধাক্কা সামলে রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানি করে ৪৯১ কোটি ডলারের সমপরিমাণের বিদেশি মুদ্রা আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের ডিসেম্বরে আসা রপ্তানি আয়ের থেকে ৪৮ শতাংশ বেশি।
তাছাড়া ডিসেম্বরের মতো এত বেশি রপ্তানি আয় আগে একক কোনো মাসে দেশে আসেনি। গত নভেম্বর মাসে রপ্তানি থেকে দেশ আয় করে ৪০৪ কোটি ডলার। সেই হিসাবে আগের মাসের তুলনায় ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।
গতকাল রবিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ইপিবি তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার, যা গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে আসা রপ্তানি আয়ের তুলনায় ৫৪৭ কোটি ডলার বা ২৮ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
ইপিবির পরিসংখ্যান আরও বলছে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত তৈরি পোশাক ও বিশেষত নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। এছাড়া চামড়া ও চামড়াপণ্য, কৃষি, প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের রপ্তানির তুলনায় ২০২১ সালের একই মাসে পোশাক রপ্তানি ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০১৯ এর ডিসেম্বর এর তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ শতাংশ। ২০২১ এর ডিসেম্বর মাসে ৪০৪ কোটি ডলার সমমূল্যের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের পোশাক রপ্তানির চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি।
পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে ৫৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে ওভেন পোশাকের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সব পণ্যের রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে।
রপ্তানি উপাত্ত অনুযায়ী পোশাক খাতের রপ্তানির ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা গেলেও সামনে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর এক পরিচালক।
তরুণ ওই উদ্যোক্তা বলেন, বিভিন্ন কাঁচামাল যেমন টেক্সটাইল, পণ্য জাহাজীকরণ খরচ, রং ও রাসায়নিক দ্রব্যের বাজার অনেক চড়া। কিন্তু পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ার অনুপাতে পোশাকের দাম সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়ছে না। এছাড়াও আমাদের পোশাক রপ্তানির প্রধান বাজারগুলোতে কভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কভিডের সংক্রমণরোধে ও নিজেদের রক্ষার্থে দেশগুলো বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এর ফলে পোশাকের নতুন ও চলমান রপ্তানি আদেশের ওপর প্রভাব পড়ছে।
ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানির আয় বেড়েছে ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। ছয় মাসে এ খাতে আয় হয়েছে ৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। আলোচিত সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয়েও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এসময় চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ ও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
তবে আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে। ডিসেম্বর শেষে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৫৯ কোটি ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ কম।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। সব শেষ তথ্যানুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি এসেছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছর পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলার আয় করেছিল দেশ।