এলিট ফোর্স র্যাব ও এর সাত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেনকে চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা অনেক পুরনো। গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের জন্যই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এগুলোই আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতি।’
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বাহিনীর বর্তমান-সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি জে ব্লিনকেনকে পাঠানো চিঠির বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন এসব কথা বলেন।
গতকাল রবিবার সিলেট নগরের কুমারপাড়ায় এনজিও সংস্থা জমজমের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, র্যাবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যে অভিযোগ তা অমূলক। বাংলাদেশে ১০ বছরে ৬০০ জন নিখোঁজের অভিযোগ তোলা হলেও আমেরিকায় প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ নিখোঁজ হচ্ছে। তাদের দেশে পুলিশের কারণে হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে। এসব নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না। তাদের ক্ষেত্রে এগুলোকে বলা হয় ‘লাইন অব ডিউটি’। আর আমাদের এখানে সামান্য কিছু ঘটনা ঘটলে অনেক কথা হয়। বলা হয় ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং’। এসব হাসির খোরাক। গত ৩১ ডিসেম্বর মোমেনের স্বাক্ষরিত চিঠি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, এর আগে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ফোনালাপ হয়েছে। তখন যে কথা হয়েছিল, সেগুলোই চিঠিতে লিখেছি। তিনি আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে তার সরকারের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। চিঠিতে আমি লিখেছি, ‘আমাদের এখানে গণতন্ত্র চর্চা আজকের না। যখন আমেরিকা আবিষ্কৃত হয়নি, সেই ছয় শতকেও এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ছিল, যদুকে জনগণ ম্যান্ডেট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল। ফলে গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক পুরনো। আর আমাদের দেশের জন্মই তো গণতন্ত্রের জন্য।’ ফলে আমার মনে হয়, তাদের নিষেধাজ্ঞা সঠিক হয়নি। এটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে। চিঠিতে আমি এ কথাই লিখেছি। র্যাব বাংলাদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক নিয়ন্ত্রণে সফলতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে র্যাবের যে কার্যক্রম, তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এই মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ ও বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও মার্কিন রাজস্ব দপ্তর বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বরাত দিয়ে বলে, র্যাবের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০০টির বেশি গুম, ২০১৮ সাল থেকে ৬০০ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও র্যাব-৭-এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহউদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র দপ্তর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে। পুলিশ দাবি করছে, এ ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া চলমান। যদিও একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।