ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের সালনা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সড়কে স্লথগতির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে যানজট লেগেই থাকে। এতে প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার অধিক অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে মানুষের মহামূল্যবান কর্মঘণ্টা।
শুধু তাই নয় রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আমদানি-রপ্তানিসহ ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এমন অভিযোগ করে রাস্তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জেলা মোটর মালিক সমিতির নেতারা।
পরিবহন ও ব্যবসায়ী নেতারা একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতি মিনিটে ৭টি যাত্রীবাহী গাড়ি বিভিন্ন সড়ক থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করে। তাহলে গড়ে ঘণ্টায় যাতায়াত করছে ৪২০টি গাড়ি।
সেই হিসেবে গড়ে ২৪ ঘণ্টায় চলাচল করছে ১০ হাজার ৮০টি গাড়ি।
পরিবহন নেতাদের হিসেবে বিভিন্ন যানজট, রাস্তা খারাপের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে তেল খরচ হচ্ছে ২০ লিটারের বেশি। সুতরাং ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮০টি গাড়ির ২০লিটার করে তেল প্রয়োজন ২ লাখ ১ হাজার ৬০০ লিটার, যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রতিদিন তেল বাবদই নষ্ট হচ্ছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ফলে মালিকরা তাদের গাড়ির কিস্তি, মেরামত, যন্ত্রাংশ, টায়ারসহ গাড়ি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এছাড়াও, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনের হওয়ায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর যাতায়াতে প্রায় এক ঘণ্টা থেকে সোয়া ঘণ্টা সময় লাগলেও গাজীপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়।
এই রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আমদানি-রপ্তানিসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল বহনে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও রোধ করা যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব, ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও এফবিসিসিআইর সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম সিআইপিসহ পরিবহন নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না ঘটালে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্তা।