রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে লাগবে টিকার সনদ

দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ও করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ায় সরকার পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এর মধ্যে এখন থেকে রেস্তোরাঁয় খেতে করোনার টিকা সনদ লাগবে বলে গতকাল সোমবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়েছে।

এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় স্বাস্থ্যবিধি মানায়ও ফের কড়াকড়ি আরোপের দিকে যাচ্ছে সরকার। এখনই লকডাউন দেওয়া না হলেও খাবারের দোকানে বসে খেতে হলে টিকা সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি এবং দেশে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভায় বিভিন্ন আলোচনার বিষয় তুলে ধরেন।

সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, টিকা সনদ ছাড়া কাউকে খাবার পরিবেশন করলে সেই রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হবে।

স্কুল খোলা রাখা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লক্ষ্য করা গেছে, শিক্ষার্থীরা টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহী নয়।

এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে কেমন কড়াকড়ি আসছে তা ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ থেকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওমিক্রন নিয়ে করণীয় নিয়ে বৈঠক হলেও আলোচনায় আসে করোনা নতুন করে বৃদ্ধির বিষয়টি। আমরা করোনা মোকাবিলা করছি। তাই অনেক কিছুই জানতে পারছি। কীভাবে কী করতে হবে। ওমিক্রনের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোও পরে জানানো হবে। এখন অবধি ওমিক্রনের যত রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের সবাই হয় বিদেশফেরত কিংবা বিদেশফেরতদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢিলেঢালা কোয়ারেন্টাইন নয়, পুলিশ পাহারায় কঠোর কোয়ারেন্টাইনের ওপর জোর দেওয়ার ক্ষেত্রেও আলোচনা হয়েছে। এখনই লকডাউনে যাচ্ছি না। নতুন প্রজ্ঞাপনে লকডাউন থাকছে না।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, তথ্য সচিব মো. মকবুল হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে মাঠ পর্যায় থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), বিভাগীয় কমিশনার, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, সিভিল সার্জনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।