নতুন বছরে অর্থ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে

বিন্দু বিন্দু করেই সিন্ধু তৈরি হয়। তাই অল্প অল্প করে সঞ্চয় করার অভ্যাস তৈরি করুন। ২০২০-২১ সালে হয়তো সঞ্চয় করার পরিস্থিতি ছিল না বহু মানুষের। এমনকি যারা সঞ্চয়ে অভ্যস্ত ছিলেন তাদেরকেও হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের দিকে ঝুঁকতে হয়েছে। এই বছরে সেই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। যাঁরা চাকরি করছেন তাঁদের জন্য সঞ্চয় করা সহজ। এ ছাড়া যাঁরা ব্যবসা করেন, ফ্রিল্যান্সিং করেন তাঁদেরও সঞ্চয় করা উচিত। সঞ্চয় আসলে সবার জন্যই। আসুন জেনে নেওয়া যাক নতুন বছরে সঞ্চয়ের নতুন কিছু কৌশল…

প্রথমে ব্যয়বহুল ঋণ পরিশোধ করুন

আপনার ঘাড়ে যদি ব্যয়বহুল ঋণের বোঝা থাকে তাহলে অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা করার কোন মানে নেই। সাধারণ সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে গড়ে ০.২% এর কম সুদ দেওয়া হয়। কিন্তু আপনাকে কোনো কোনো ঋণের বিপরীতে হয়তো ২০% এর বেশি সুদ দিতে হতে পারে। তাই অর্থ সঞ্চয় করার কথা ভাবার আগে ব্যয়বহুল ক্রেডিট কার্ড, স্টোর কার্ড বা ওভারড্রাফ্ট ঋণ পরিশোধ করুন।

 

বিপদ মোকাবিলার জন্য জরুরী তহবিল

আমাদের প্রত্যেকেরই একটি সহজে প্রবেশযোগ্য সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে কিছু নগদ টাকা রাখা উচিত যাতে বিপদের সময়ে তা থেকে সহজেই অর্থ তুলে ব্যয় করা যায়। জীবন আমাদের দিকে যে কোনো সময়ই বাজে পরিস্থিতি ছুঁড়ে দিতে পারে। তা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের সকলেরই শক্তিশালী সঞ্চয় থাকা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের সবসময়ই একটি সহজে প্রবেশযোগ্য অ্যাকাউন্টে তিন থেকে ছয় মাসের প্রয়োজনীয় খরচ জমা করে রাখা উচিত। যেমন বাসা ভাড়া, খাবারের খরচ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল।

 

বিশেষ কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে অর্থ সঞ্চয় করুন

বিপদের দিনের জন্য সঞ্চয়ের বাইরে, আপনি অন্য কোনো লক্ষ্যেও নগদ অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন। এবং বিশেষ লক্ষ্য থাকলে তা আপনাকে সঞ্চয়ে অনুপ্রাণিত করবে। একটি বিশেষ লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং সেটিকে একটি নাম দেওয়া আপনাকে ট্র্যাকে রাখতে সাহায্য করবে। যেমন একটি নতুন বাড়ি, ভ্রমণ ট্রিপ বা বড় কেনাকাটা ইত্যাদি নানা লক্ষ্যে আপনি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

 

সঞ্চয়কে একটি নিয়মিত অভ্যাস করে তুলুন

যারা নতুন সঞ্চয় করছেন তাদের জন্য নিয়মিত সেভিংস অ্যাকাউন্ট একটি ভালো অপশন। আপনার কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে স্থায়ী আদেশের মাধ্যমে প্রতি মাসেই কিছু অর্থ সেভিংস অ্যাকাউন্টে আলাদা করে রাখুন।

 

রাউন্ড ফিগার করে সঞ্চয় করুন

এছাড়া কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে মাঝে-মধ্যেই রাউন্ড-ফিগার করে বাড়তি টাকাটুকু সেভিংস অ্যাকাউন্টে রেখে দিন। যেমন আপনার অ্যাকাউন্টে যদি ২৩ হাজার টাকা থাকে তাহলে সেখান থেকে ৩ হাজার টাকা কেটে তা ২০ হাজার টাকা করে ফেলুন। বাকী ৩ হাজার টাকা সঞ্চয় করুন।