বিশ্বের প্রথম কোনো কোম্পানি হিসেবে অ্যাপল ৩ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছাতে চলেছে। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের শেয়ারমূল্য বেড়ে এই মাইলফলকে পৌঁছার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারের দর গত সোমবার ৩ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের রেকর্ড ১৮২ দশমিক ৮৮ ডলারে উঠে যায়। আর তাতেই কোম্পানির বাজার মূলধন ৩ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।
গত তিন বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৩৪ শতাংশ। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে অ্যাপলের শেয়ারের দর ছিল ৪১ দশমিক ৮৬ ডলার, যা গত সোমবার ১৮২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৮ সালের আগস্টে অ্যাপলের বাজারমূল্য ১ লাখ কোটি ডলার এবং ২০২০ সালের আগস্ট মাসে ২ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ২০০৭ সালে যখন প্রথমবার আইফোন বাজারে উন্মুুক্ত করেন, তারপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য বেড়েছে ৫ হাজার ৮০০ শতাংশ। যদিও সোমবার নিউইয়র্কের ট্রেডিংয়ে মাইলফলক হতে খুব সামান্য পিছিয়ে গেছে। তবু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজার মূল্য ২ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন ডলার। করোনা মহামারীর বড় বিজয়ী ভাবা হয় অ্যাপলকে। কারণ, লকডাউনের এই সময়ে গ্যাজেটে মানুষের সময় ব্যয় করার প্রবণতা বেড়েছে। পুঁজিবাজারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়েডবুশের বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেন, ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছা অ্যাপলের জন্য আরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি প্রমাণ করবে যে সন্দেহ পোষণকারীরা ভুল।
মূলত নতুন ফোন সেট আইফোন ১৩-এর ভালো বিক্রি হওয়ায় ব্যবসা বেড়েছে অ্যাপলের। এ ছাড়া অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভি+ ও আইক্লাউডের মতো সেবার বিক্রি বেড়েছে অ্যাপলের। এসবের কল্যাণে অ্যাপলের বাজার মূল্য এতটা বেড়েছে। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের বিক্রি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এ সময় তার মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে কোম্পানির হাতে আছে এখন ১৯ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি কিউপারটিনোতে ১৯৭৬ সালে অ্যাপলের যাত্রা শুরু হয়। এটি প্রতিষ্ঠা করেন স্টিভ জবস এবং তার ব্যবসায়ী সঙ্গী স্টিভ ওজনিয়াকি ও রোনাল্ড ওয়েন।
শিগগিরই আরও কিছু কোম্পানি ৩ লাখ কোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করতে পারে। এখন মাইক্রোসফটের বাজার মূল্য আড়াই লাখ কোটি ডলার। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বাজার মূল্য ২ লাখ কোটি ডলার। তবে আমাজন এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছে। আমাজনের বাজার মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার। আর ইলন মাস্কের টেসলার বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার।