বাংলাদেশের টেস্টে জয়ে সারা দেশের মতো আনন্দে ভাসছে জয়ের অন্যতম নায়ক এবাদত হোসেন চৌধুরীর গ্রাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা কাঁঠালতলী। পরিবার থেকে শুরু করে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। গতকাল বুধবার বিকেলে এবাদতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার মা-বাবাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে এলাকাবাসী।
ছেলের এমন সাফল্যে অনুভূতি জানতে চাইলে বাবা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি নিজে বিজিবিতে চাকরি করে দেশরক্ষার কাজে ছিলাম। আজ আমি গর্বিত আমার ছেলেও দেশের পক্ষে এত বড় সুনাম আনতে পেরেছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই খেলার প্রতি তার আলাদা টান ছিল। সারাদিন ক্রিকেট খেলত। স্বপ্ন ছিল সে কোনো একদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। আজ আমার ছেলের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিতিয়ে সে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমাদের ছেলের এমন পারফরম্যান্সে আমরাও খুশি। এলাকার মানুষও খুশি। আমরা তার সব খেলা দেখেছি। নামাজ পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য দোয়া করেছি। সকালে এবাদতের সঙ্গে আমাদের মুঠোফোনে কথা হয়েছে। সে খুব খুশি।’
মা সামিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যেন আরও ভালো খেলতে পারে দেশবাসীর কাছে সেই দোয়া চাই।’
চাচাতো ভাই দেলওয়ার হোসেন চৌধুরী ইমন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে সারা বাংলাদেশের মতো আমরাও গর্বিত, আনন্দিত। আমার ছোট ভাই এবাদত ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগী। আমাদের বিশ্বাস ছিল সে একদিন দেশের মুখ আলোকিত করবে। আজ তার সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে।’
এবাদতের সহপাঠী আমজাদ হোসেন পাপলু ও এমদাদুর রাজ্জাক রাব্বি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সে যে চমক দেখিয়েছে তাতে আমরা খুশি। এলাকার মানুষ ভীষণ খুশি। তার জন্য আজ বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। এলাকার সবাই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।’
নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও সামিয়া বেগম দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় এবাদত হোসেন। লেখাপড়া করেছেন কাঁঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে। ওই সময় থেকে পড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক বাড়ে আর সেখান থেকেই স্কুলের দল এবং স্থানীয় উপজেলাভিত্তিক দলে সবার প্রিয়-মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জন ব্যক্তি তার বাবা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে অবসরে আসেন। ছোট বয়সেই সংসারের চাপ নিতে চিন্তা করেন এবাদত। লেখাপড়া এবং খেলাধুলা থেকে মনোযোগী হন চাকরি খুঁজতে।
সেই দিনগুলোর গল্প জানাতে গিয়ে এবাদতের ছোট ভাই শাহজাহান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বোনের বিয়ের পরপর বাবা বিজিবির চাকরি থেকে অবসরে আসেন তখন নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের যেমন হয় ভাইয়েরও তাই হয়েছে। চাকরির চেষ্টা করতে থাকেন। এসএসসি পাস করার পরপর চাকরি পেয়ে যান বিমানবাহিনীতে। যার কারণে অনেক বড় গ্যাপ হয় ক্রিকেটজীবনে। বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর সেখান থেকেই খেলাধুলার সুযোগ পান।’