যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিতে কাজ হবে না : রেজা কিবরিয়া

নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কারণ তারা দেশের জনগণকে খুন, গুম করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। সরকারের বেআইনি আদেশ পালন করেছে। তবে আমেরিকা আপাতত যারা বেআইনি আদেশ দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যায়নি। যাবে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’ সম্প্রতি চ্যানেল ইউরোপ ও এবিসির এক টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গণফোরামের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১০ জন সিনেটর এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে আমেরিকার সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের নিজের, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাইবোনের নামে আমেরিকায় যে সম্পদ আছে তা বাজেয়াপ্ত হবে। যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বিশ্বের ১৮০টি দেশে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে তারা বাধ্য নয়। কিন্তু কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি বা অস্ট্রেলিয়ার মতো যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করে থাকে। যুক্তরাজ্য ও ব্রিটেনে প্রস্তুতি চলছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে।’

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনিজে ব্লিনকেনকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। চিঠিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চিঠির বিষয়ে কিবরিয়া বলেন, ‘আমেরিকায় আইনের শাসন রয়েছে। সেখানে সিনেটররা চিঠি দিয়ে কারও বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে বললে সরকার পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিতে বাধ্য। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যে চিঠি দিয়েছেন তাতে কোনো লাভ হবে না। কারণ, একবার নিষেধাজ্ঞা দিলে তা প্রত্যাহার করে না আমেরিকা সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝাচ্ছেন। প্রত্যাহার করতে হলে যে আইনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সে আইন বাতিল করতে হবে। বাতিল করতে হলে ৫১ জন সিনেটরের সমর্থন লাগবে।’

আমেরিকার সরকার যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান লেনদেন করলে ব্যাংক কিংবা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বেকায়দায় পড়বে। তবে রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভেনেজুয়েলা ও বার্মা এর আওতার বাইরে।  

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেজারি অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের অভিযোগ এনে বিশ্বের ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। এ তালিকায় বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ ৬ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন অর্থ দপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের যুদ্ধে অংশ নিয়ে র‌্যাব আইনের শাসন ও মানবাধিকার খর্ব করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে।