তিনটি বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ করা ৮৪ জনকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে পৃথক চারটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে সে ক্ষেত্রে ওই প্রার্থী নিয়োগ পাবেন না।
৩৬, ৩৭ ও ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পিএসসির সুপারিশের পরও নিয়োগবঞ্চিত এই ৮৪ জনের নাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেটে না আসায় নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালে পৃথক সময়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তারা। প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছরের বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ প্রশ্নে রুল দেয় হাইকোর্ট। রুলে নিয়োগের জন্য প্রকাশিত গেজেটে রিট আবেদনকারীদের নাম না থাকা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না সেটিও জানতে চায় আদালত।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. সিদ্দিক উল্যাহ মিয়া ও মো. মিজানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৮৪ জনকে নিয়োগ দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রায়ে এই নিয়োগপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিতে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। কোনো প্রার্থী রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত কিনা, তার নামে ফৌজদারি মামলা আছে কিনা এ ধরনের নেতিবাচক প্রতিবেদন যদি আসে তবে সেই প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’
আইনজীবী মো. ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, ওই ৮৪ জনকে চিকিৎসক, প্রশাসন, শিক্ষা, পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। মন্ত্রণালয়ের গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে ৩৬তম বিসিএসের ১০ জন, ৩৭তম বিসিএসের ৩৮ জন ও ৩৯তম বিসিএসের ৩৬ জন হাইকোর্টে পৃথক চারটি রিট আবেদন করেন। এর মধ্যে ৩৯তম বিসিএসের ৩৬ জন চিকিৎসক।
আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ বলেন, ‘রুল যথাযথ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে পিএসসির সুপারিশের পরও এই ৮৪ জনকে নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে তাদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।’