২০১১-১৩ সালে চিলির ছাত্র আন্দোলন শিক্ষাব্যবস্থাই শুধু বদলে দেয়নি, জন্ম দিয়েছিল শক্তিশালী নেতা গ্যাব্রিয়েল বোরিকের। গত ১৯ ডিসেম্বর দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। একনায়কতন্ত্রের থাবা থেকে দেশটিকে বের করে আনতে প্রতিবাদী নেতা গ্যাব্রিয়েল বোরিকের দিকে তাকিয়ে আছে চিলির জনগণ। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
গ্যাব্রিয়েল বোরিক
চিলি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য একজন বামপন্থি নেতা প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাঠে বয়সে বেশ ছোট। বয়স মাত্র ৩৫ বছর। বয়সে ছোট হলেই অভিজ্ঞতা স্বল্পতায় মনে যে ভয় জাগে সে ভয় চিলির জনমানুষের মনেও। মঞ্চে উঠে তিনি বেশি কথার ধার দিয়ে গেলেন না। সরাসরি বলে বসলেন, ‘তরুণদের এই দেশে পরিবর্তন দেখলে ভয় পাবেন না।’
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের তুলনায় তিনি একেবারেই ভিন্নধর্মী। মুখভর্তি দাড়ি, হাতে আঁকা উল্কি এবং অন্য রাজনীতিবিদদের চেয়ে খুব কম সময় টাই পরতে দেখা যায় তাকে। যেন পোশাক আর আচরণে জানান দিচ্ছেন, রাজনীতির মাঠে অন্যদের মতো করে দৌড়াতে আসেননি তিনি। প্রচারাভিযানের সময় নিজের অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার (শুচিবাই) নিয়েও কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, চিলির জনসাধারণের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারটি নিয়ে যত্নবান হওয়ার সময় এসেছে। সমালোচকরা অবশ্য বলেন, তিনি অনভিজ্ঞ। সমালোচকদের পালে হাওয়া দিয়ে তিনি নিজেই স্বীকার করে নেন ব্যাপারটি, বলেন, তার অনেক কিছুই শেখার আছে। নিজের ভিন্নপন্থি প্রচারাভিযান পর্ব আরেকটু রাঙিয়ে তুলতে জনমানুষের কাছে গিয়ে বলেন, তিনি কবিতা ও ইতিহাসের একজন আগ্রহী পাঠক। কাজের ক্ষেত্রে তিনি মধ্যপন্থি সমাজতান্ত্রিক। তাকে দেখলেই তার পুরনো চেহারা মানুষের চোখে ভাসে। পুরনো দিনের বিপ্লবী ছাত্রনেতা ছিলেন তিনি। লম্বা চুলের ঝাঁজালো পুরুষের কণ্ঠ থেকে গর্জে উঠত ছাত্র অধিকারের নানা বিষয়। সে বিপ্লবী ছাত্রনেতা এখন দাঁড়িয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট মাঠে।
এই মানুষটি চিলির মানুষের কাছে অতিপরিচিত। স্বৈরশাসক জেনারেল অগাস্টো পিনোশের আরোপিত মুক্তবাজার অর্থনৈতিক মডেলের আমূল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের গভীর বৈষম্যের মূলে রয়েছে ভারসাম্যহীনতা।
প্রচারণার দৌড়ে বরাবরই এগিয়ে ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় রাউন্ডে অতি ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী হোসে আন্তোনিও কাস্টকে বিস্ময়করভাবে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। যার মধ্য দিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। চিলির নাগরিকদের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। চিলিতে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান হ্রাসের বিষয়টি খুবই গুরুত্ব পেয়েছে তার নির্বাচনী প্রচারণায়। এত নতুন ভাবনার প্রতিশ্রুতি চিলির ইতিহাসে অন্য কেউ করে দেখাতে পারেনি। যিনি করে দেখিয়েছেন তার নাম গ্যাব্রিয়েল বোরিক। ছাত্র আন্দোলনের বিপ্লবী স্রোত থেকে উঠে আসা প্রথাবিরোধী এক তরুণ রাজনীতিবিদ তিনি।
বেড়ে ওঠা
গ্যাব্রিয়েল বোরিক ১৯৮৯ সালে চিলির দক্ষিণভাগের পুন্টা অ্যারেনাসে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ শহরে ব্রিটিশ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৪ সালে চিলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়ার জন্য সান্তিয়াগোতে আসেন। ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপও শেষ করেন। এরই মধ্যে চলে আসে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়। আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে চলে ব্যাচেলর শেষ করার মৌসুম। ২০১১ সালে আন্দোলনে ব্যস্ত থাকায় অকৃতকার্য হন তিনি। এরপর শুরু হওয়া রাজনৈতিক জীবনে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মজার বিষয় হচ্ছে, এক সাক্ষাৎকারে নিজের একাডেমিক জীবন নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিজেকে আইনজীবী হিসেবে আশা করেননি। আইনজীবীর পরিবর্তে একজন লেখক হতে চেয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আসার পর মানবাধিকার কোর্সে অধ্যাপক হোসে জালাকুয়েটের সহকারী হিসেবে একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের উৎপত্তি, যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার স্থান তৈরি করে দিয়েছিল সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মানবাধিকার’এর মতো একটি বিষয় পড়ানোর বিষয়টি নিঃসন্দেহে আনন্দের।
ছাত্রনেতা বোরিক
১৯৯৯-২০০০ সালে বোরিক পান্টা অ্যারেনাসের মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্র ফেডারেশনের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থি রাজনীতিতে আগ্রহ বাড়ে তার। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসিত বামদলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে আইন বিভাগের ছাত্র ইউনিয়নের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। তৎকালীন বিভাগীয় ডিন রবার্তো নাহুমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৪৪ দিন ধরে চলা এক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১০২০১২ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর হিসেবে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০১১ সালে চিলি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের (এফইসিএইচ) সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ছাত্র বিক্ষোভের দ্বিতীয় অংশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সে আন্দোলনের পর থেকে চিলি ছাত্র ফেডারেশনের একজন জনপ্রিয় মুখপাত্র হয়ে ওঠেন। তার জনপ্রিয়তা তখন এত বেশি ছিল যে, ২০১২ সালে তিনি অ্যাডলফো ইবানেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এল মারকিউরিও পত্রিকার জরিপে চিলির ১০০ তরুণ নেতার একজন নির্বাচিত হন।
চেম্বার অব ডেপুটিজের সদস্য
২০১৩ সালে সংসদীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন গ্যাব্রিয়েল বোরিক। ম্যাগালানেস ও চিলির অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল ছিল তার নির্বাচনী এলাকা। এ অঞ্চলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটের রেকর্ড গড়ে ১৫ হাজার ৪১৮ ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি হয়ে ওঠেন চিলির আশার প্রতীক। স্বৈরাচারী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মিডিয়া নানাভাবে প্রভাবিত হয়, চিলিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সেই প্রভাব সত্ত্বেও গ্যাব্রিয়েল বোরিকের নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারটি সংবাদমাধ্যমগুলো খুবই আনন্দের সঙ্গে প্রচার করে। বোরিকের নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে এলাকাভিত্তিক ২-৩ জন চেনা মুখের বাইরে নেতাসংকট কাটিয়ে নতুনের আবির্ভাব দেখতে পায় চিলি।
২০১৪ সালের ১১ মার্চ মাসে চেম্বার অব ডেপুটিজের সদস্য হিসেবে শপথ নেন গ্যাব্রিয়েল বোরিক। প্রথম মেয়াদে বোরিক মানবাধিকার ও আদিবাসী কমিশনে বসেন। মেরু অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা, শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা দেখভালের কাজটিও ছিল তার। পাশাপাশি অন্য প্রধান ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তখন ছিল মিশেল ব্যাচেলেটের দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের সময়। সে সময় শিক্ষা সংস্কার প্রক্রিয়া ছিল খুবই বিতর্কিত বিষয়। ডেপুটি হিসেবে খুবই দায়িত্বশীল ভূমিকায় ছিলেন বোরিক। ধীরে ধীরে ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে মূলধারার রাজনীতিতে জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
বোরিক মিশেল ব্যাচেলেটের কেন্দ্রীয়-বাম সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি নিয়ে কথাবার্তা বলার জন্য সংলাপের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু মতবিরোধের জের ধরে স্বায়ত্তশাসিত বামপন্থিদের ভেটো দেওয়া হয়। ফল হিসেবে তৈরি হয় বামপন্থি নতুন জোট। বোরিক, নিকোলাস গ্রাউ, জর্জ শার্প ও গঞ্জালো উইন্টার মিলে শুরু হয় নতুন জোট। স্বায়ত্তশাসিত এই জোট নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করে। ২০১৭ সালের নির্বাচনে বোরিক ব্রড ফ্রন্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিউম্যানিস্ট পার্টি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। এবারও সাফল্যের মালা ওঠে বোরিকের গলায়। গতবারের তুলনায় বিপুলসংখ্যক ভোটার বাড়ে তার। প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মুখচেনা নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে। ফলে বোরিকের মতো আস্থাভাজন নেতার দিকে দৃষ্টি ফেরাতে বাধ্য হয় মানুষ। চিলির ইতিহাসে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ডেপুটির আসন গ্রহণ করেন তিনি। এবার নিজের কাজের পরিধি আরেকটু বাড়িয়ে নেন বোরিক। চিলির অ্যান্টার্কটিক কমিশনে বসেন তিনি। পাশাপাশি সংবিধান, আইন, বিচার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করেন।
২০১৭ সালের নির্বাচনে ব্রড ফ্রন্টের ভালো ফল চিলির জনগণের মনে দিন বদলের আশা জাগায়। ব্রড ফ্রন্ট হয়ে দাঁড়ায় চিলির তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি। স্বায়ত্তশাসিত আন্দোলন জনমুখী অন্য ছোট ছোট আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে ২০১৮ সালে দলটির নাম হয়ে দাঁড়ায় সোশ্যাল কনভার্জেন্স (সামাজিক অভিন্নতা)। এর মধ্য দিয়ে কট্টরপন্থি রাজনৈতিক ধারার সমান্তরালে চিলির সামাজিক জীবনে রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন হয়ে দাঁড়ায় এ দলটি। যেটি ছিল দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সামাজিক ভূমিকা
২০১৯ সালের অক্টোবরে সান্তিয়াগো পরিবহন ব্যবস্থায় শুল্ক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। মানুষের ভেতরের সমষ্টিগত ক্ষোভের উদগিরন শুরু হয় এ বিক্ষোভে। সামরিক স্বৈরশাসনের অবসানের পর থেকে এটি হয়ে দাঁড়িয়েছিল সবচেয়ে বড় নাগরিক অস্থিরতা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি অবস্থা কায়েম করা হয়। এ জরুরি অবস্থা যেন শহরের দাঙ্গার আগুনে ঘি ঢালে। বাড়তে থাকা বিক্ষোভের আঁচ শহর ছাপিয়ে দেশটির আনাচেকানাচে গিয়ে লাগে। বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো ছিল যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়, দুর্নীতি ও বৈষম্য সম্পর্কিত বিভিন্ন দাবিদাওয়া পেশ করেন তারা। সরকারের কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচক ছিলেন বোরিক। বিক্ষোভ দমন করতে বিক্ষুব্ধ জনসাধারণের বিরুদ্ধে চিলির সশস্ত্র বাহিনী লেলিয়ে দেওয়ার কঠোর প্রতিবাদ জারি রাখেন তিনি। কেবল প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত দেননি তিনি। জনমানুষের নেতা হয়ে ওঠার পথটি প্রশস্ত করতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেস চ্যাডউইককে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি তোলেন। বোরিক ও তার সমমনা মানুষদের দাবির মুখে অভিশংসিত হন চ্যাডউইক। একই সঙ্গে ৫ বছরের জন্য সরকারি পদ থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি।
কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করলেই রাষ্ট্র কাঠামোর সামগ্রিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয় না। তাই বোরিক তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পিনেরার বিরুদ্ধে আসা অভিশংসনের দাবিও সমর্থন করেছিলেন তিনি। যদিও পিনেরা তার পদে বহাল থাকেন।
নতুন দায়িত্বে
এ বছর ১১ মার্চ চিলির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন গ্যাব্রিয়েল বোরিক। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বাধিক ভোটও রয়েছে তার ঝুলিতে।
বর্তমানে বহু বছর ধরে চলে আসা রাজনৈতিক অস্থিরতা আর কভিডের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে আছে চিলি। কেবল একটি দ্বিধা বিভক্ত দেশের মুখোমুখিই নন, একটি ভগ্ন সংসদ, চিন্তিত বিনিয়োগকারী এবং ধীরগতির অর্থনীতির দেশের নেতৃত্বে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। পেনশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, বড় কোম্পানি ও ধনী ব্যক্তিদের জন্য কর বৃদ্ধি, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমাসহ অন্যান্য নানা ধরনের নাগরিক সেবা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চান তিনি। একই সঙ্গে স্বৈরশাসিত ভগ্নদশার অর্থনীতিকে সবল করার কাজটিও তাকে করতে হবে। বোরিকের জয়ে তার সমর্থকরা সান্তিয়াগো শহরের কেন্দ্রস্থলে আনন্দ মিছিলে বের হয়। বোরিকের প্রগতিশীল নীতিতে খুশি তারা।
চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল লোপেজ বলেছেন, বোরিক সামনের একটি জটিল সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন। বিভক্ত কংগ্রেসের কারণে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে তাকে, যেখানে সরকারি বা বিরোধী দল কোনো পক্ষেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তিনি বলেন, ‘দেশটির অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য তাকে একটি শক্তিশালী বক্তৃতা দিতে হবে। দেশটির অনেক কিছুই নির্ভর করবে তার নিয়োগ ও সিদ্ধান্তের ওপর। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়ে খুব মনোযোগী হবেন।’
আগামী চার বছর প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিকের শাসনকাল শুরু হতে যাচ্ছে। ২০১১ সালের যে ছাত্র প্রজন্মের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি, এবার তাদের নিয়েই তার রাষ্ট্রযন্ত্র মেরামতের কাজ শুরু করতে হবে। ফলে আগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন তিনি। চিলির গণমানুষের আশা, বোরিকের গৃহীত সিদ্ধান্তেই বদলে যাবে চিলির ভবিষ্যৎ।