সুপ্রিম কোর্টের দুর্নীতি অনুসন্ধানে কমিটি

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধান করতে একটি কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও  হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (সার্বিক) মো. আবদুর রহমান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (অর্থ ও উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। পরদিন বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন প্রধান বিচারপতি। গত ২ জানুয়ারি  আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাস কক্ষে প্রথম কার্যদিবসের দিন প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেয় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

এ সময় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিচার বিভাগের দুষ্ট ক্ষতকে প্রশ্রয় না দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দুর্নীতিকে ক্যানসারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো আপস (নো কম্প্রোমাইজ) হবে না। চিহ্নিত হলে সে যে-ই হোক না কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক সভ্যতা পরাজিত হবে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি মামলাজট নিরসন, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা-গতিশীলতা আনা ও অনিয়ম অনুসন্ধানে পৃথক কমিটি গঠন করার কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির ওই ঘোষণার চার দিনের মাথায় সুপ্রিম কোর্টের দুর্নীতি অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হলো।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, দেশের সব অধস্তন আদালতে মামলাজট ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা আনতে আটটি বিভাগের জন্য একজন করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিকে প্রধান করে একটি করে মনিটরিং সেল করা হবে। প্রতি মাসে তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য একটি প্রিলিমিনারি ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হবে।