বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি) হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্ট বিভাগের ডেসপাচ (আদান-প্রদান শাখা) শাখায় এ সংক্রান্ত নথি আসে। পরে এটি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা এবং রায়ের মোট ৬ হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার নথি তারা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১০৯ পৃষ্ঠার।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন আইনি বিধান মোতাবেক এটি পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাবে।’
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদ-ের রায় হলে সেটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারিক আদালতের সকল নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এরপর মামলার পেপারবুক (রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হলে এটি শুনানির পর্যায়ে আসে। কারাগারে থাকা আসামিরা আপিলের সুযোগ পান। পাশাপাশি অন্যান্য মেয়াদে কারাদন্ডপ্রাপ্ত এবং যারা কারাবন্দি তারাও আপিল করতে পারেন। তবে, যারা পলাতক তারা আপিলের সুযোগ পেতে আত্মসমর্পণ করতে হয় কিংবা গ্রেপ্তারের পর তারা আপিলের সুযোগ পান।
আবরার হত্যা মামলায় গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২৫ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। রায়ে ২০ জনকে প্রাণদ- ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়। যে ২০ জনকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয় তারা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, অনিক সরকার অপু, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, মোজাহিদুর রহমান, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহ, মাজেদুর রহমান মাজেদ, খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মন্ডল জিসান, এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মিজানুর রহমান, শামছুল আরেফিন রাফাত, মুজতবা রাফিদ ও এসএম মাহামুদ সেতু। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মুহতাসিম ফুয়াদ, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, আকাশ হোসেন, মোয়াজ আবু হোরায়রা। তারা সবাই ঘটনার সময় বুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচ ও বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। দন্ডপ্রাপ্তরা ছিলেন বুয়েটে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তফা রাফিদ নামে তিন আসামি এখনো পলাতক।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের করিডোর থেকে। পরে জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি নিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্টের জের ধরে রাতে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। একই বছরের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। গত ৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করে বিচারিক আদালত।