ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বিএনপি-ছাত্রলীগের সমাবেশ একই স্থানে, ১৪৪ ধারা

বিএনপি ও ছাত্রলীগ একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টারসংলগ্ন এলাকায় আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এ নিয়ে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমানসহ দলের চার নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সদর থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টার প্রাঙ্গণে আজ দুপুর ২টায় সমাবেশ ডাকে বিএনপি। এ ব্যাপারে তাদের কোনো অনুমতি না থাকায় ছাত্রলীগ একই স্থানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ছাত্র সমাবেশ ডাকে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্যান্ডেল বানানোর ছবি তুলে ফেইসবুকে পোস্ট করে। এর পর থেকে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সমাবেশ বানচাল করতে তাদের চার নেতাকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। যেকোনো মূল্যে সমাবেশ করারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রধান অতিথি থাকার কথা। এছাড়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা।

গতকাল কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর অন্যায়ভাবে ছাত্রলীগ পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দেয়। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসন ও পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে আমাদের সমাবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল হক খোকন, সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমানকে শহরের পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে আটক করে নিয়ে গেছে।’

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি জানান, পুলিশ চার নেতাকে ধরে নিয়ে কোথায় রেখেছে, সেটা তারা জানতে পারছেন না। যেকোনো মূল্যে তারা সমাবেশ করবেন।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে অনুমতির আবেদন করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ আহ্বান করেছিলাম। বিএনপি কী কারণে আমাদের স্থানে সমাবেশ ডাকল জানি না। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সমাবেশ বন্ধ করেছি। পরবর্তীতে সমাবেশ করব। আর বিএনপি যদি পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা করে তবে আমরা তাদের প্রতিহত করব।’

সদর থানার ওসি এমরানুল ইসলাম জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিএনপির চার নেতাকে আটক করা হয়েছে। আরও খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’