৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

রংপুরের বদরগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন এক স্বামী বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী আব্দুল মনিম সরকারকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্দ পশ্চিমপাড়া গ্রামে ইশিতা জাহান ইশাকে পিটিয়ে হত্যা করেন তার স্বামী।

পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, চার বছর আগে রংপুরের সদর উপজেলার শাহাপাড়া খলেয়া গঞ্জিপুর গ্রামের ইলিয়াছ শাহের মেয়ে ইশার সঙ্গে বদরগঞ্জ উপজেলার খাগড়াবন্দ পশ্চিমপাড়া গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে মনিম সরকারের বিয়ে হয়। এর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই নির্যাতন করতেন মনিম। এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ইশা স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

তারা আরও জানান, পরে বিষয়টি দুপক্ষের স্বজনদের মধ্যে মীমাংসা হলে আবারও সংসার শুরু করেন তারা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন মনিম। একপর্যায়ে বদরগঞ্জ উপজেলা সদরের বালুয়া ভাটা মহল্লার বাসা থেকে ইশাকে খাগড়াবন্দ পশ্চিমপাড়ার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে আবার তার শাশুড়ি যৌতুকের জন্য তাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ইশার স্বামী মনিম গ্রামের বাড়িতে আসেন। এরপর স্ত্রীকে বলেন, বিকাশের মাধ্যমে রাতের মধ্যে বাপের বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে। ঈশা টাকার কথা বলতে পারবে না জানালে তাকে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে মৃত স্ত্রীকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নওশিন আক্তার জানান, অনেক আগেই ইশা মারা গেছেন।

এ সময় মনিম জানান, তার স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এরপর তিনি হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে গৃহবধূর মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটা আঘাতজনিত কারণে মৃত্যু বলে আমরা নিশ্চিত হওয়ার পর স্বামী মনিমকে আটক করেছি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।