প্রথম তিন টেস্ট জিতে অ্যাশেজের দখল নিশ্চিতের পর অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ছিল ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা। কিন্তু সেটা হতে দেননি জ্যাক লিচ, স্টুয়ার্ট ব্রড ও জিমি অ্যান্ডারসন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে গতকাল ফ্লাডলাইটের আলোয় ৬৪ বল খেলে টিকে থাকার সংগ্রামে জয়ী হয়ে চতুর্থ টেস্ট ড্র করেছেন তারা। এই ৬৪ বলের ৫২টিই খেলেছেন লিচ-ব্রড জুটি। ৯১.২ ওভারে ২৩৭ রানের মাথায় আউট হন জনি বেয়ারস্টো। এরপর ৩৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ শেষ ১৩ বলের মধ্যে নিয়ে যান লিচ আর ব্রড। কিন্তু স্টিভ স্মিলের করা ১০০তম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে গেলে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা জাগে অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু লায়নের করা ৬ বল ব্রড আর স্মিথের করা শেষ ওভারটা ব্যাট করে কাটিয়ে দেন টেস্ট ক্রিকেটে ৩০ বার শূন্যতে আউট হওয়া অ্যান্ডারসন। ৩৮ বার শূন্যতে আউট হওয়া ব্রড ৩৫ বলে ৮ রান করে ছিলেন অপরাজিত।
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট বলেছেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে আমরা কিছুটা হলেও সম্মান ফিরিয়ে আনতে চাই। ইংল্যান্ডে বসে যারা আমাদের সমর্থন করে যাচ্ছেন, তাদের অন্তত কিছু দিতে চাই। আমরা অনেক সাহস আর দৃঢ়তা দেখিয়েছি।’ ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করতে ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক কামিন্স বলেছেন ‘হ্যাঁ, আমরা ৪-০ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ক্রিকেটের জন্য খুব ভালো একটি ম্যাচই হয়েছে।’
শেষ দিনে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ৩৮৮। আগের দিনের বিনা উইকেটে ৩০ রান নিয়ে খেলতে নেমে সাবধানী ছিলেন দুই ইংলিশ ওপেনার। হাসিব হামিদ আউট হন দলীয় ৪৬ রানের মাথায়। ৭৪ রানে আউট হন ডেভিড মালান। অন্য প্রান্তে জ্যাক ক্রলি অবিচল ছিলেন। ১০০ বলে ৭৭ রান করে তিনি দলীয় ৯৬ রানে আউট হন। এরপর অধিনায়ক রুটের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বেন স্টোকস। চতুর্থ উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়েন তারা। ইংল্যান্ড চা-বিরতিতে যায় ৪ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে। বিরতি থেকে ফিরে ৬০ রান করে লায়নের বলে আউট হন স্টোকস। এরপর ফিরে যান জস বাটলার, মার্ক উড ও বেয়ারস্টো। এই ভাঙনে প্রতিরোধ গড়েন লিচ আর ব্রড।