ঘুষ গ্রহণ ও মানি লন্ডারিং আইনে করা দুর্নীতির মামলায় বরখাস্ত কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিককে দুটি ধারায় আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন।
এর মধ্যে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় পার্থ গোপালকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুটি ধারায় সাজা একসঙ্গে চলবে বলে তাকে পাঁচ বছরের কারাভোগ করতে হবে। এ ছাড়া ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আরও তিন মাস বেশি কারাভোগ করতে হবে পার্থ গোপালকে। সাবেক এই কারা কর্মকর্তার বাসা থেকে জব্দ করা ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৬৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা অবৈধ উপার্জন হিসেবে বিবেচনা করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে রায়ে। বাকি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ‘বৈধ উপার্জন’ হিসেবে বিবেচনা করে পার্থকে তা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জানান, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
গত ২৭ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল ও আসামিপক্ষে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী যুক্তিতর্ক শেষ করেন। গত ১৬ নভেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চার্জশিটভুক্ত ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালত। এরপর ২৪ নভেম্বর মামলাটিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া বক্তব্যে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন পার্থ গোপাল।
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে দুদক। একই দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপালকে।
ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এ তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে পার্থ গোপালের বাসায় অভিযান চালানো হয়। পরে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার ও পার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. সালাউদ্দিন মামলা করেন।
সিলেটে দায়িত্ব পালনের আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দায়িত্ব পালন করেন পার্থ গোপাল। চট্টগ্রাম কারাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে এবং চট্টগ্রামের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
গত বছর ২৪ আগস্ট একই কর্মকর্তা ডিআইজি পার্থের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরে ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে আদালত।
পার্থ গোপাল ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামের ডিআইজি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় পার্থ গোপালের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন।
গত ১৯ আগস্ট তাকে ‘অস্বাভাবিকভাবে’ জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক। পরে মামলাটি বদলি করে বিশেষ জজ আদালত-৪-এ পাঠানো হয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর পার্থ গোপালের জামিন বাতিল করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। সেই আদেশ অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর পার্থ গোপাল বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠায়।