গুলিস্তানে দুই পথচারীকে বাসচাপা

হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্সে ভারী যান চালাতেন রাকিব

রাজধানীর গুলিস্তানে মেঘলা বাসের ধাক্কায় দুই পথচারী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাসের চালক মো. রাকিব শরীফ হালকা মোটরযানের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েই ভারী মোটরযান চালাতেন। বাসটির দৈনিক চুক্তিভিত্তিক ভাড়া পরিশোধ করে বেশি মুনাফার আশায় ট্রিপ সংখ্যা বাড়াতে প্রায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতেন তিনি। দুর্ঘটনার দিনও অতিরিক্ত গতির কারণে ফ্লাইওভার দিয়ে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের চাপা দেন তিনি। 

গতকাল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা জানান। এর আগে গত শনিবার রাতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে রাকিব শরীফকে গ্রেপ্তার করে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘রাকিব শরীফ জানায়- সে ৭ থেকে ৮ বছর আগে থেকে মেঘলা পরিবহনে বাসের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। এর পাশাপাশি সে বাস চালানোর প্রশিক্ষণ নেয়। পরে বাসের চালকের সহকারীর কাজ ছেড়ে গাড়ি চালানোর জন্য মেঘলা পরিবহনের বিভিন্ন মালিকদের অনুরোধ করে। কিন্তু রাকিব শরীফের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো মালিক তাকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেননি। পরে সে তদবিরের মাধ্যমে মেঘলা পরিবহনের বিভিন্ন মালিকদের গাড়ি সাময়িকভাবে চালানো শুরু করে। এরপর ২০১৯ সালে সে হালকা মোটরযান ড্রাইভিং লাইসেন্স (পেশাদার) পায়। এই লাইসেন্স (পেশাদার) দিয়েই সে ভারী মোটরযান চালানো শুরু করে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত ১৫ দিন আগে থেকে ওই বাসটির মালিক সবুর মিয়ার কাছ থেকে দৈনিক ২ হাজার ২৫০ টাকা হারে বাসটি ভাড়ায় চালানো শুরু করে রাকিব। গত শনিবার বাসটি নিয়ে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভুলতা গাউছিয়া থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সকাল  সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে গুলিস্তান সংযোগে নামার সময় বেশি গতি থাকার কারণে এবং ব্রেক কাজ না করায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাম পাশে আইল্যান্ডের সঙ্গে ঘেঁষে নামতে থাকে। এই সময় ফ্লাইওভারে অন্য একটি বাস থেকে যাত্রী নামছিল। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেয় বাসটি।’

খন্দকার আল মঈন বলেন, রাকিব শরীফ আরও জানিয়েছে বাসটির দৈনিক চুক্তিভিত্তিক ভাড়া মালিককে পরিশোধ করার জন্য এবং বেশি মুনাফার আশায় সে ট্রিপ সংখ্যা বাড়াতে বেপরোয়া গতিতে চালাত। বেশি গতির কারণে ফ্লাইওভার দিয়ে নামার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রাকিব পথচারীদের চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে শেখ ফরিদ (২৮) এবং মো. বাদশা মিয়া (৩২) নামে দুই পথচারী মারা যান। আহত হয়ে চিকিৎসা নেন আরও পাঁচজন। দুর্ঘটনার পর রাকিব বাসটি রেখে পালিয়ে যায়। এক নিহতের পরিবার ওয়ারী থানায় একটি মামলা করে।