নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নবজাতক কন্যা শিশুসহ মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরে ওই পাগল মা সন্তানকে রেখে হাসপাতাল থেকে উধাও হয়েছেন। শিশুটির বাবার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
রবিবার ভোরে উপজেলার বরুঙ্কা গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে ওই পাগলিকে নবজাতকসহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই পাগলির খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শিশুটিকে বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে বাজারের কেনা দুধ খাওয়ানোসহ সার্বিক পরিচর্চা করছেন ওখানকার দায়িত্বরত নার্সরা। তবে ওই নারী শিশুটিকে রেখেই রবিবার দুপুরে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। এর মধ্যে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য অনেক নিঃসন্তান দম্পতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রিনা পাল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটিকে আমরা সবাই মিলে পরিচর্চা করছি। পুরোপুরি সুস্থ আছে শিশুটি। শিশুটির মা ভারসাম্যহীন ওই নারীকে রাতভর ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে দিনের মধ্যভাগে কাউকে না জানিয়েই হাসপাতাল থেকে চলে গেছে। তারপর আর তার খবর জানি না।
কলুঙ্কা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, গভীর রাতে বরুঙ্কা গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে আসতে শুনে একই গ্রামের আল আমিন নামের এক ব্যক্তি। পরে এলাকার লোকজনকে ডেকে জাগিয়ে তুলে তাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে পাগলি ও নবজাতককে উদ্ধার করে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারা এসে পাগলি ও শিশুকে নিয়ে গিয়ে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে ওই নারী পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন। তার বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। হয়তো অন্য কোনো এলাকা থেকে এখানে এসেছে।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফারজানা হক হেনা বলেন, ওই নারী পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন। নিজের নাম ঠিকানাও বলতে পারে না। তাকে আমাদের এলাকায় এর আগে কেউ কোনো দিন দেখেননি। তবে এদিন বিকেলে রাস্তার পাশে ওই নারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন একজন। ভোর রাতে এলাকার লোকজন জঙ্গল থেকে নবজাতকসহ উদ্ধারের পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে নিয়ে যায়। এমন একটা পাগলির সঙ্গে যা হয়েছে তা দুঃখজনক।
মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের ইনচার্জ রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ওই নারী ও নবজাতককে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। ফুটফুটে একটা বাচ্চা, দেখলেই মন ভরে যায়। আমার নিজের তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে নার্সদের অনুরোধ করেছি বাচ্চাটার পরিচর্চা করার জন্য।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে ওই নারী ও নবজাতককে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। তার বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, বাচ্চাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে প্রথম অগ্রাধিকার শিশুর সুস্থতা। শুনেছি অনেক নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে দত্তক নেওয়া জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা এ বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী এর করণীয় ঠিক করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ শামছুল আলম বলেন, শিশুটির পরিচর্চা চলছে। তবে সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ইউএনও’র সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়ম অনুযায়ী শিশুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, অনেক নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটি দত্তক নেওয়ার জন আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে যে দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেই, তাদের অগ্রাধিকার পাবে। তবে সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে বলেছি এ বিষয়ে কি নিয়ম কানুন আছে দেখার জন্য। তা ছাড়া অন্য এলাকায় এর আগে এইরকম শিশুর বেলায় তারা কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ীই এ বিষয়টা সমাধান করা হবে।