হলিউডের অন্যতম বিখ্যাত অভিনেতা অস্কারজয়ী সিডনি পটিয়ের মারা গেছেন সম্প্রতি। তিন দশক তার অসাধারণ অভিনয় মুগ্ধ করে রুপালি পর্দার দর্শকদের। তার কারণে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের প্রতি হলিউডের বর্ণবাদী মনোভাবের পরিবর্তন আসে। অভিনয়ের পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন সিডনি। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
কৃষ্ণাঙ্গ পটিয়ের
৬ জানুয়ারি অসাধারণ প্রতিভার এক অভিনেতাকে হারায় হলিউড। ওই দিন রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ৯৪ বছর বয়সে মারা যান অস্কারজয়ী কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পী সিডনি পটিয়ের। সিডনির আগে বা পরে দুনিয়ায় কম বড় অভিনেতার আবির্ভাব ঘটেনি। তবে তাকে বাদ দিয়ে চলচ্চিত্র জগতের মূল্যায়ন অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতে পা দেন সিডনি। বাঁধাধরা ধাঁচে নেতিবাচকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়কে রুপালি পর্দায় উপস্থাপনের সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন সিডনি। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি হলিউডের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রথম ভাঙেন তিনি। অভিনয়শিল্পের প্রতি অনুরাগ, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম তাকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়, পান অস্কার পুরস্কার। সিডনি অভিনীত হলিউডের মূলধারার বেশ কটি চলচ্চিত্রের কাহিনী বর্ণবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়। সিডনির এক জীবনীকার তাকে ‘চলচ্চিত্রের মার্টিন লুথার কিং’ হিসেবে অভিহিত করেন। সিডনির অস্কার জেতার ৩৮ বছর পর কৃষ্ণাঙ্গ আরেক অভিনেতা ডেনজেল ওয়াশিংটন অস্কার পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘সিডনি হলিউডে আসার আগে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেতারা শুধু সাপোর্টিং রোলে অভিনয়ের ডাক পেতেন। সেসব চরিত্র আবার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রদর্শনের সময় কেটে বাদ দেওয়া হতো। কিন্তু সিডনিকে কীভাবে বাদ দেবেন? তার অভিনয় এত শক্তিশালী ছিল যে, চাইলেই তার চরিত্র কেটে বাদ দেওয়া সম্ভব ছিল না।’ ‘ইন দ্য হিট অব দ্য নাইট’ ও ‘গেস হু ইস কামিং টু ডিনার’র মতো বিখ্যাত ছবিতে অসাধারণ অভিনয় করে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতাদের হলিউডের ছবির মূল চরিত্রে কাজ করার সুযোগ করে দেন সিডনি। কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি হলিউডের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের মনোভাব পরিবর্তনে বড় অবদান রাখেন তিনি। সিডনির কয়েক দশকের যুগান্তকারী ক্যারিয়ার তাকে হলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেতায় পরিণত করে। অভিনয়ের পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন সিডনি।
পেশাজীবনে কয়েকটি ক্ষেত্রে বেশ কয়েকবার প্রথম হন সিডনি। যেমন : ১৯৫৭ সালে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান তিনি; তার আগে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ এই সম্মান পাননি। পরের বছর ১৯৫৮ সালে ‘দ্য ডিফায়েন্ট ওয়ানস’ ছবির জন্য অস্কারে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পান সিডনি। এই মনোনয়নও কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে তিনিই প্রথম। আর ১৯৬৪ সালে ‘লিলিস অব দ্য ফিল্ড’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন তিনি। ১৯৬৮ সালে হলিউডের টপ বক্স অফিস স্টারের তালিকায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা হিসেবে সিডনির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০০৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে নিজের পরিচালিত চলচ্চিত্রের বিষয়ে সিডনি বলেছিলেন, “আমার সময় বা নিজের প্রতিই শুধু আমি দায়বদ্ধ নই। আমি যে সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব করি, তাদের প্রতিও আমার দায়িত্ব রয়েছে। হলিউডে এসে দেখি, অভিনয়শিল্পীদের বড় অংশই শ্বেতাঙ্গ। হাতেগোনা যে কজন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা রয়েছে, তাদের চাকর-বাকর বা ভাঁড় ছাড়া অন্য কোনো চরিত্র দেওয়া হয় না। কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়কে মূলধারার বাইরে ভিন্নভাবে রুপালি পর্দায় দেখাতে চেয়েছি আমি যেন সেসব চলচ্চিত্র দেখে তারা নিজেরাই বলে উঠবে, ‘আমাদের এমন রূপায়ণ ভালো লেগেছে’।” যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত চলচ্চিত্র সমালোচক ভিনসেন্ট ক্যানবি সিডনির চলচ্চিত্র পরিচালনা সম্পর্কে একবার লিখেছিলেন, ‘সিডনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন না; মাইলফলক নির্মাণ করেন।’ অস্কার ছাড়াও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার পান সিডনি। তার অভিনয়-প্রতিভাকে ‘শৈল্পিক উৎকর্ষ ও আমেরিকার অগ্রগতির মাইলফলক’ উল্লেখ করে ২০০৯ সালে তাকে প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পুরস্কার দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আর ১৯৭৪ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন।
সিডনির শৈশব
সিডনি পটিয়েরের মা-বাবা বাহামা দ্বীপপুঞ্জের ক্যাট আইল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তারা টমেটোচাষি। ১৯২৭ সালে টমেটো বিক্রি করতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যান। সে বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি শহরে জন্ম হয় সিডনির। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সিডনি ক্যাট আইল্যান্ড ও বাহামার রাজধানী নাসোতে বড় হন। ২০১৫ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিডনি জানান, শৈশবে দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে কৃষ্ণাঙ্গদের বিষয়ে নেতিবাচক হলিউডে টিকে থাকতে সহায়তা করে। তিনি বলেন, ‘আমাদের টাকাপয়সা ছিল না। ঘরে বিদ্যুৎ বা পানির ব্যবস্থা ছিল না। তা সত্ত্বেও ছোটবেলায় আমাকে শেখানো হয়, মানুষ হিসেবে মৌলিক অধিকার পাওয়ার দাবিদার আমি। আমাকে শেখানো হয়, বড় হয়ে আমি বিশেষ একজন হব।’ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করতে ১৩ বছর বয়সে ফুল-টাইম কাজ নেন সিডনি। দুই বছর পর উন্নত জীবনের সন্ধানে মিয়ামিতে বসবাসরত বড় ছেলের কাছে সিডনিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তার মা-বাবা। নৌকায় চড়ে মিয়ামির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় হাতে তিন ডলার গুঁজে দিয়ে তার বাবা তাকে বলেন, ‘নিজের খেয়াল রেখো।’ সেই স্মৃতি স্মরণ করে পরে সিডনি বলেন, ‘নৌকাটি ছাড়ার সময় বাবাকে চিন্তিত দেখেছিলাম। ওই তিন ডলার দিয়ে নতুন জায়গায় আমি জীবন শুরু করতে পারব কি না, বাবা হয়তো সেটাই ভাবছিলেন। আজ জানি, যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে সেই তিন ডলারের চেয়ে বেশি কিছু মা-বাবা আমাকে দিয়েছিলেন, শিখিয়েছিলেন।’
অভিনয় জীবন
১১ বছর বয়সে চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহ গড়ে ওঠে সিডনির মধ্যে। তাই মিয়ামিতে পৌঁছার পর কিছুদিন ভাইয়ের সঙ্গে থেকে অভিনেতা হওয়ার সংকল্প নিয়ে নিউ ইয়র্ক শহরে যান তিনি। কপর্দকশূন্য সিডনি নিউ ইয়র্কে কুলি, বাসের হেলপার, বাসন মাজার কাজ করতেন। রাত কাটাতেন বাস টার্মিনালে, পাবলিক টয়লেটের বাইরে। এভাবেই দিন কাটছিল। হঠাৎ একটি ঘটনা তার জীবন পাল্টে দেয়। ম্যানহাটনের ১২৫ নম্বর রাস্তায় বসে এক দিন খবরের কাগজে বাসন মাজার চাকরি খুঁজছিলেন সিডনি। কাগজের একটি জায়গায় তার চোখ আটকে যায়। সেখানে লেখা, ‘অভিনেতা চাই।’ নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত মঞ্চ নাটকের দল ‘আমেরিকান নিগ্রো থিয়েটার’ সে সময় অভিনেতার খোঁজ করছিল। থিয়েটারের সেই বিজ্ঞপ্তি দেখে অডিশন দিতে যান সিডনি। অডিশনে অভিনয়ের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সিডনির বাহামিয়ান উচ্চারণ শুনে নিয়োগকর্তারা বলেন, ‘সময় নষ্ট করো না। বাসন মাজার কাজ করো।’ এতে অবশ্য দমেননি সিডনি। কাজের ফাঁকে রেডিওতে ইংরেজি ভাষায় আমেরিকান উচ্চারণ শিখতে শুরু করেন তিনি। ছয় মাস পর আবার অডিশন দেন তিনি। এবার সফল হয়ে ‘ডেইজ অব ইয়োর ইয়ুথ’ নামে নাটকের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান সিডনি। মূলত মঞ্চে ওই চরিত্রটি করে আসছিলেন হ্যারি বেলাফন্ট নামের এক অভিনেতা। সে সময় বেলাফন্ট চরিত্রটি করতে না পারায় সেটি সিডনিকে দেওয়া হয়। আর এভাবেই অভিনয় জীবন শুরু হয় সিডনির। এই হ্যারি বেলাফন্টের সঙ্গে পরে সিডনির গভীর বন্ধুত্ব হয়।
‘ডেইজ অব ইয়োর ইয়ুথ’ নাটকে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সিডনিকে। খুব দ্রুত অভিনয় জগতে পরিচিতি পান তিনি। ২৩ বছর বয়সে হলিউডে ‘নো ওয়ে আউট’ ফিল্মে অভিনয়ের ডাক পান সিডনি। ওই ফিল্মে হাসপাতালের এক চিকিৎসকের চরিত্রে ছিলেন তিনি। শ্বেতাঙ্গ এক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে তার কাছ থেকে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন ওই চিকিৎসক। ‘নো ওয়ে আউটের’ পর ‘টু স্যার, উইথ লাভ’, ‘ইন দ্য হিট অব দ্য নাইট’সহ আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে একের পর এক অভিনয় করেন তিনি। নম্র-ভদ্র ও দয়ালু চরিত্রেই সে সময় বেশি দেখা যেত সিডনিকে।
ক্রিটিকদের চোখে সিডনির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘লিলিস অব দ্য ফিল্ড’ ও ‘গেস হু ইস কামিং টু ডিনার’। ২০১৭ সালে ‘গেস হু ইস কামিং টু ডিনার’ ছবিতে অভিনয় করা সিডনির সহ-অভিনেত্রী ক্যাথরিন হোটন মাসিক পত্রিকা ভ্যানিটি ফেয়ারকে বলেন, ‘সিডনির মতো তারকার একটি ব্র্যান্ড ছিল। আর ওই ব্র্যান্ড নির্মাণে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তার কাজ নিয়ে অন্যদের চেয়ে বেশি আলোচনা হবে এটা সিডনি জানতেন। এ কারণে শ্বেতাঙ্গ অভিনেতাদের চেয়ে বেশি খাটতে হয় তাকে।’
পথচলা
খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছার পথ মসৃণ ছিল না সিডনির। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় জীবনের চরম আনন্দঘন মুহূর্তেও কড়া সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাননি তিনি। ১৯৬৪ সালে অস্কার জয়ের অনুষ্ঠানে মঞ্চে সিডনির গালে চুমু দেন অভিনেত্রী অ্যান ব্যানক্রফট। এ নিয়ে সে সময় শোরগোল ওঠে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অঙ্গরাজ্যে তখনো শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ নারী-পুরুষের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বা বিয়ের অনুমতি ছিল না। হলিউডের চলচ্চিত্রে কৃষ্ণাঙ্গদের সে সময় যেভাবে উপস্থাপন করা হতো, তা করতে রাজি হতেন না সিডনি। এ কারণে শেক্সপিয়ারের ‘অথেলো’ নাটকের অথেলো চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব নাকচ করেন তিনি। ১৯৬১ সালে ‘প্যারিস ব্লুজ’ নামে রোমান্টিক এক ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ওই ছবির আগে কোনো কৃষ্ণাঙ্গকে হলিউডের রোমান্টিক ছবির কেন্দ্রে দেখা যায়নি। ১৯৬৭ সালে ‘গেস হু ইস কামিং টু ডিনার’ চলচ্চিত্রে ক্যাথরিন হোটনের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথম শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ নারী-পুরুষের সম্পর্কের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন সিডনি। ১৯৭৫ সালে ‘দ্য উইলবি কন্সপিরেসি’ নামের হলিউডের বর্ণবাদবিরোধী ছবিতে অভিনয় করে বর্ণবাদের বিষয়ে নিজের অবস্থান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে জানান দেন তিনি। ১৯৬৯ সালে ‘দ্য লস্ট ম্যান’ চলচ্চিত্রে কাজ শুরুর আগে অভিনব এক দাবি করে বসেন সিডনি। তার দাবি, নির্মিতব্য চলচ্চিত্রটির কমপক্ষে অর্ধেক ক্রু কৃষ্ণাঙ্গ হতে হবে। তার দাবি মানেন প্রযোজক। এমন ঘটনা হলিউডের ইতিহাসে সেটাই প্রথম।
অ্যাক্টিভিস্ট সিডনি
সিডনির অ্যাক্টিভিজম শুধু হলিউডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৬৩ সালের আগস্টে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের ওপর চলমান বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সামনে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। মার্চ অন ওয়াশিংটন নামে পরিচিত ওই সমাবেশে অংশ নেয় প্রায় আড়াই লাখ কৃষ্ণাঙ্গ। সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা কৃষ্ণাঙ্গ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র জনতার উদ্দেশে তার বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ বক্তৃতা দেন। লাখো কৃষ্ণাঙ্গের সঙ্গে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সেদিন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিডনিও। পরে ১৯৬৮ সালে দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের দাবিতে মার্টিন লুথার কিং আয়োজিত ‘পুওর পিপলস ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে ফের ওয়াশিংটনে হাজির হন সিডনি। ওই কর্মসূচির কয়েক দিন পরই মার্টিন লুথারকে হত্যা করা হয়। সমাজে সিডনির অবদানের প্রশংসা করে ১৯৬৭ সালে মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন, ‘মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে নিবেদিত মানুষ সিডনি।’ ১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ কলোনি বাহামা স্বাধীনতা অর্জন করে। বাহামার স্বাধীনতার জন্য প্রচারে যুক্ত ছিলেন সিডনি। সেই বছর অভিনয় ছেড়ে পরিচালক হিসেবে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি।
সিডনি মানুষদের শুধু বিনোদনই দেননি, তাদের আলোকিতও করেন। তিনি জানতেন, তার ক্যারিয়ার হলিউডে অন্য কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের কাজ করতে সহায়তা করেছে। এটিকে তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কৃষ্ণাঙ্গদের বড় পরিসরে কাজ করার প্রথম উদ্যোগ হিসেবে দেখতেন। অভিনয়-নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষেত্রও নির্মাণ করেন সিডনি। হলিউডে পঞ্চাশের দশকের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিলোপ এখনো হয়নি। সিডনি এমন এক পৃথিবীর জন্য কাজ করতেন যেখানে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। তার পথ অনুসরণ করে মানুষ সেই পৃথিবী নির্মাণে কাজ করা জারি রাখবে আর এর মাধ্যমে সিডনির বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
শ্রদ্ধা
বৃহস্পতিবার সিডনির মৃত্যুর খবরে গভীর শোক জানান বাহামার উপ-প্রধানমন্ত্রী চেস্টার কুপার। তিনি বলেন, ‘স্যার সিডনি পটিয়ের আমাদের কাছে কী ছিলেন, তা তাকে আর বলা হবে না। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা একজন নায়ক, পথপ্রদর্শক, যোদ্ধা ও সর্বোপরি জাতীয় সম্পদ হারিয়েছি।’ সিডনির পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের কাছে সিডনি পটিয়ের শুধু অসাধারণ অভিনেতা, অ্যাক্টিভিস্ট ও অবিশ্বাস্য নৈতিক দৃঢ়তার মানুষই ছিলেন না, তিনি একই সঙ্গে ছিলেন দায়িত্ববান স্বামী ও বাবা।’
রাজনীতি ও বিনোদন জগতের অনেকে সিডনির প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘একের পর এক যুগান্তকারী চরিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে সিডনি চলচ্চিত্রের শক্তিকে আমাদের সামনে উন্মোচন করেছেন। পরের প্রজন্মের জন্য অভিনয় জগতের দুয়ার খুলে দিয়েছেন তিনি।’ অন্যদিকে টক শো হোস্ট অপরাহ উইনফ্রে লেখেন, ‘ব্যক্তি সিডনির মনের বিশালত্বকে আমি আজীবন শ্রদ্ধা করব।’ অভিনেতা ডেনজেল ওয়াশিংটন বলেন, ‘সিডনি পটিয়েরের বন্ধু হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। তিনি আমাদের জন্য সেই দরজা খুলে দেন, যা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।’