নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) কোনো প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীকেও দলটির পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। তাই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী-স্থানীয় প্রতিনিধিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক সমরেশ ম-ল মানিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী-স্থানীয় প্রতিনিধিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন না দেওয়ার জন্য পার্টির চেয়ারম্যান কর্র্তৃক আদিষ্ট হয়ে ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা অনুরোধ জানিয়েছেন। যদি কোনো নেতাকর্মী কোনো প্রার্থীর পক্ষে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, অবিলম্বে তাদের নিষ্ক্রিয় হওয়ার অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গতকাল দুপুরে টাঙ্গাইল-০৭ আসনের উপ-নির্বাচনসহ চলমান সব নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদল। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব এ টি ইউ তাজ রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাজমা আখতার প্রমুখ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবির খন্দকার এবং নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত কয়েক মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নামে সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। সে নির্বাচনে শাসক দলের কর্মীরা জাতীয় পার্টি প্রার্থী ও সমর্থকদের মারধর করেছে। কোথাও কোথাও নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে। অত্যাচারের কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সুফল পাইনি। এর আগেও সিরাজগঞ্জের একটি উপনির্বাচনে আমাদের প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে নৈরাজ্যকর অবস্থা হয়েছে তাই আমাদের আশংকা হচ্ছে মির্জাপুরের নির্বাচন নিয়ে।’
জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে বলেছি, প্রশাসন অনেক সময় অতি উৎসাহী হয়ে শাসক দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্লজ্জভাবে কাজ করতে চায়। নির্বাচন কমিশন তাদের যেন কন্ট্রোল করে এবং নির্বাচন যেন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হয়।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ যেন ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ যেন সৃষ্টি হয় তার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অনুরোধ করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচন অবাধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।’