অলস টাকা কমায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিল নিলাম স্থগিত

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়ায় ব্যাংকের তারল্যের চাপ কমে এসেছে। এ কারণে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’ নিলাম আবারও স্থগিত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ডিসেম্বর থেকে বিল নিলাম স্থগিত রাখা হয়। চলতি জানুয়ারি মাসেও বিলের কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে গত ৯ আগস্ট থেকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’ নিলাম পুনরায় শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দিন ৭ ও ১৪ দিন মেয়াদের বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হয়।

এরপর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসেই বিল নিলাম করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি মাসে গড়ে ১৯-২০ হাজার কোটি টাকার বিল নিলাম হয়। এই নিলামে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা বাড়তি টাকা দিলে বিল কেনে। এর বিপরীতে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকগুলো কিছু সুদ পায়। ৭, ১৪ ও ৩০ দিন মেয়াদে এই বিলগুলো নিলাম করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফলে ব্যাংকগুলো বাড়তি তারল্য ধরে না রেখে এ ধরনের স্বল্প মেয়াদি বিনিয়োগে ঝুঁকতে শুরু করে। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে কলমানি মার্কেট অনলাইনে নিয়ে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকের তারল্য বিনিয়োগের পথ আরও সুগম হয়। ধীরে ধীরে ব্যাংকের তারল্যের চাপ কমে আসে। গত জুলাইয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চার মাসে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য ২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে; অর্থাৎ আলোচিত সময়ে উদ্বৃত্ত তারল্য কমেছে ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত নভেম্বরে ব্যাংক খাতে মোট তরল সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৭ হাজার ১৪২ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত তারল্য আর্থিক খাতে সমস্যার সৃষ্টি করেছিল বলে স্বল্প মেয়াদি বিল নিলাম পুনরায় শুরু করা হয়। তারল্যের চাপ কমে আসায় ডিসেম্বর মাস থেকে তা আবার স্থগিত রাখা জয়। এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক বিল নিলামের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অলস টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল।

গত নভেম্বরে ব্যাংকে বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদা কিছুটা বাড়ে। ওই মাসে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর আগের মাসে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনা মহামারীর কারণে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।