মাউন্ট মঙ্গানুইতে ইতিহাস গড়া জয়ের পর ক্রাইস্টচার্চ সুখকর ছিল না বাংলাদেশের। প্রথমে ৬ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণার চাপ। পরে মাত্র ১২৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া এবং ফলোঅনে নেমেও টপঅর্ডারদের বড় ইনিংস খেলার ব্যর্থতা। ফলাফল দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৮ রান করে ইনিংস ও ১১৭ রানের ব্যবধানে হার। সিরিজ ড্র করায় নিউজিল্যান্ড থেকে প্রথমবার মাথা উঁচু করেই ফিরবে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম জয়ের পয়েন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টে হারের মাঝেও লিটন দাশের সেঞ্চুরি বড় স্বস্তি ও প্রাপ্তি।
লিটন দাশের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার লোক ছিল না কখনই। কবজির মোচড়ে শট খেলতে পারার সহজাত প্রতিভা আছে তার। উইকেটের চারপাশে শট খেলেন ধারাবাহিকভাবেই। কিন্তু রানের ধারাবাহিকতাটাই তার ছিল না। অথচ পাকিস্তানের বিপক্ষে গত টেস্ট সিরিজে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পাওয়ার পর লিটন যেন বদলে গেলেন। পরিবর্তনের শুরুটা অবশ্য গত বছর উইন্ডিজ সিরিজ থেকেই। সেবার টানা দুই টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করা লিটন পরের ৭ টেস্টের দুটিতে সেঞ্চুরি মিস করেন। পাকিস্তানের সঙ্গে চট্টগ্রাম টেস্টে একটি সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি তার। ৬ বছর অপেক্ষার পর পাওয়া সেই সেঞ্চুরি যেন তাকে আরও বড় কিছুর পথ দেখাল। মাউন্ট মঙ্গানুইতেও ৮৬ রান করে সেঞ্চুরির কাছে ছিলেন। সেই আক্ষেপ মেটালেন ক্রাইস্টচার্চে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি দিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা দায়িত্ব নিয়ে খেলার যে উদাহরণ লিটন গত ৯ টেস্ট ধরে দেখাচ্ছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সেটাই বড় পাওয়া। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নতুন বার্তাও দিয়ে দিলেন লিটন। মিডল অর্ডারে তার কাছে দলের যে চাওয়া তা মেটানো এখন থেকে তাহলে টেস্টে দায়িত্বশীল লিটনকেই পাওয়া যাচ্ছে। দিন শেষে অধিনায়ক মুমিনুলও জানালেন, ‘বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের মতো ব্যাট করে লিটন। সে যেন উইকেটে বল দেখার অনেক সময় পায়। তাই সেট হলে তার শট দেখার মতো হয়। উইকেটের সবদিকেই খেলতে পারে এবং ওর ব্যাটিংয়ের সময় আমরা দারুণ উপভোগ করি। সে টানা দুটি সিরিজে সেঞ্চুরি করেছে।’
৩৯৫ রানে পিছিয়ে থেকে গতকাল সকালে ফলোঅনে নামে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয় সময় নিয়ে ৭৬ রানের যে ইনিংস খেলেছিলেন তার পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি সাদমান-নাঈম-শান্তরা। অবশ্য এই ইনিংসে শুরুটা পেয়েছিলেন তারা সাদমান ২১, অভিষেক ইনিংসে ০ করা নাঈম করেন ২৪ ও শান্ত ২৯ রান করেন। মুমিনুল হকের ওপর এবার গুরু দায়িত্ব ছিল ইনিংস বড় করার। মুশফিকুর রহিম না থাকায় তাকেই কা-ারীর ভূমিকাটা পালন করতে হতো। আগের ইনিংসে ব্যর্থ অধিনায়ক এবার শুরুটা পান কিন্তু ৬৩ বলে ৩৭ করে ফেরেন নিল ওয়াগনারের বলে। ১০২ রান করা লিটন নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ১০১ রানের জুটি ছিল তাদের। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের মতোই দিনের মাঝপথ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়েও শেষদিকে থামেন সোহান। ৫৪ বলে ৩৬ রানে মিচেলকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। তাতে বাংলাদেশের ইনিংসও ভেঙে পড়ে যেন। গত ইনিংসের হাফসেঞ্চুরিয়ান ইয়াসির আলি রাব্বি এবার ২ রানে ফেরেন। পরে মিরাজ (৩) ও টেল এন্ডাররা দ্রুতই ফেরেন।
টেস্টে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষে ওঠার পেছনের অন্যতম নায়ক রস টেইলরকে জয় দিয়ে বিদায় জানায় কিউইরা। এদিকে নিজেই নিজেকে জয় উপহার দেন টেইলর বাংলাদেশের শেষ ব্যাটসম্যান এবাদত হোসেনকে আউট করে।