নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১৩ মাসের শিশু তাসফিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলি এলাকায় লাশটি ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেন। এ নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১০ জনেরই লাশ উদ্ধার হলো।
তাসফিয়া ফতুল্লার চরমধ্যনগর এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে। এর আগে সোহেলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩৫), বড় মেয়ে তাসমিন আক্তার (২০) ও ছেলে তামিমের (৮) লাশ পাওয়া যায়। এছাড়া ট্রলারডুবির ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেনÑ ফতুল্লার চর বক্তাবলির রাজু সরদারের কলেজপড়ুয়া ছেলে সাব্বির আহমেদ (১৮), মৃত আক্কাস আলীর ছেলে আওলাদ হোসেন (৩০), আবদুল্লাহ (২৪), শামসুদ্দিন (৬২), হাজিপাড়ার আবদুল জলিলের মেয়ে জ্যোস্না বেগম (৩৩) ও ফতুল্লা উত্তর গোপাল নগরের রেকমত আলীর ছেলে আবদুল মোতালেব (৪২)।
ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে এমভি ফারহান-৬ নামে লঞ্চের ধাক্কায় ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ ঘাট এলাকায় একটি ট্রলার ডুবে যায়। এরপর সাঁতার কেটে বেশ কয়েকজন তীরে এলেও ১০ যাত্রী নিখোঁজ ছিলেন। এরপর দুর্ঘটনার পঞ্চম দিনে ছয়জন, ষষ্ঠ দিনে তিনজন ও সপ্তম দিনে আজ (গতকাল) শিশু তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো।
দুর্ঘটনার পরদিন ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উদ্ধার নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপপ্ত) বাবু লাল বৈদ্য। পুলিশ এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান (৪০), ইনচার্জ ড্রাইভার জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও সুকানি মো. জসিম মোল্লাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে।