মুক্তিযোদ্ধার ওপর ‘রাজাকার পুত্রের’ হামলার অভিযোগ

কুষ্টিয়া কুমারখালীতে ছেলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জেরে মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ হোসেন মানুর (৬৬) ওপর দুর্বৃত্তদের সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গুরুতর আহত ওই মুক্তিযোদ্ধাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাহমুদ হোসেন মানুর ছেলে আসাদুজ্জামান নয়ন জানান, ‘গেল বছর আমাদের ‘‘আস্থা সার্বিক গ্রামোন্নয়ন সমবায় সমিতি” নামে একটি রেজিস্টার্ড সমবায় সমিতি সঞ্চিত তহবিল হতে স্থানীয় কিছু লোকজন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে। এসব ঋণের টাকা পরিশোধে গ্রহীতারা শর্ত ভঙ্গ করায় বিভিন্নভাবে তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ওই টাকা আদায়ে চেক ডিশ অনার মামলা করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় শফি, হারুন, সুলতানসহ আরও অজ্ঞাত ১০-১২ জন আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে বেদম মারপিট করেন এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে সেখান থেকে গুরুতর আহতাবস্থায় আমাকে উদ্ধার হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ হোসেন মানু বাদী হয়ে ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ এনে ৮ জনের নামোল্লেখ আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মামলা করেন। এতে এসব সন্ত্রাসীরা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমার বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী কুমারখালী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এটি এম আবুল মনসুর মজনুর অভিযোগ, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমাদের সমিতির অফিসে সহযোদ্ধা মাহমুদ হোসেন মান সন্ত্রাসীদের হুমকির বিষয় অবগত করছিল। এ সময় হঠাৎ কুমারখালীর চিহ্নিত তালিকাভুক্ত রাজাকার মসলেম পুত্র শফির নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি হামলাকারী দল আমাদের অফিসের ভেতরে ঢুকে সহযোদ্ধা মানুকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে রাস্তা দিয়ে মারধর করতে করতে নিয়ে চলে যায়। দৃশ্যটি দেখে আমার সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকারদের ভূমিকার চিত্র ভেসে উঠল। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের মাটিতে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে চরমভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করে রাজাকারের বংশধরেরা যে আস্ফালন দেখিয়ে গেল তাতে আমি লজ্জিত, অপমানিত ও আতঙ্কিত।

কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানুর ওপর হামলা ও মারধরে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার ঘটনাটি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাক না কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া হাসপাতালেও ওই মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসায় অবহেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল আলম বলেন, ‘হাসপাতালে সাড়ে ৬শ রোগী ভর্তি আছে, নির্ধারিত চিকিৎসকেরা বলতে পারবেন কোন রোগীর কি অবস্থা। এটা আমার দায়িত্ব নয় যেসব রোগীর অবস্থা সম্পর্কে আমাকে খোঁজ রাখতে হবে, আপনার রোগীর নাম বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে সময় মতো জানাব।’