বিধিনিষেধ শুরু আজ কার্যকরে বড় চ্যালেঞ্জ

মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ বৃহস্পতিবার থেকে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ও করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার আরোপিত ১১ দফা বিধিনিষেধ শুরু হতে যাচ্ছে। ১১ দফার মধ্যে অন্তত চার দফার ক্ষেত্রে এ চ্যালেঞ্জ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো হলো উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা গেলেও ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ভিড় কমানো, যানবাহনে অর্ধেক যাত্রী বহন, যানের চালক ও সহকারীদের জন্য করোনার টিকা সনদ থাকা, টিকা সনদ ছাড়া ১২ বছরের ঊর্ধ্বের ছাত্রছাত্রীদের টিকা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং রেস্তোরাঁ ও আবাসিক হোটেলে টিকা সনদ প্রদর্শন।

অবশ্য সতর্ক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ না নিলে বাকি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা যাবে। তখন সংক্রমণ হলেও তা হবে ধীরগতির। এর মধ্যে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুতি নিতে পারবে। আর যদি বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানা না হয় তাহলে লকডাউনের মতো সার্বিক বিধিনিষেধে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে সবাইকে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

এদিকে বিধিনিষেধ শুরুর আগেই গণপরিবহনে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী বহনের চ্যালেঞ্জটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ নতুন বিধিনিষেধ চলাকালে পুরনো ভাড়ায় গণপরিবহন পরিচালনা করতে হবে বলে গতকাল বুধবার পরিবহন মালিকদের জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পক্ষান্তরে ভাড়া বৃদ্ধি না করলেও মালিকপক্ষ যত আসন তত যাত্রী পরিবহনের অনুমতি চেয়েছে। তবে আন্তঃনগর ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ। আগামী শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এ ব্যাপারে কভিড-১৯ সংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিধিনিষেধ যথেষ্ট ভালো। প্রত্যেকটাই যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে প্রত্যেকটা একেক হারে সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করবে। এই ১১ দফা বিধিনিষেধ সম্মিলিতভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। নিয়ন্ত্রণ বলছি এই কারণে যে, করোনা হঠাৎ করেই যাবে না। বিধিনিষেধ মানলে একবারে না বেড়ে একটু একটু করে বাড়বে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, সংক্রমণ যেন এক লাফে ৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ না হয়। তাহলে সরকার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি পাবে। পুরনো রোগীগুলো ভালো হতে থাকবে ও নতুন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এটাই নিয়ম। সেই আলোকে এই ১১ দফা নির্দেশনা বা প্রস্তাবনা ভালো।’

তবে এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কয়েকটা জায়গায় অবশ্যই চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটাই বাস্তবায়ন সম্ভব যদি আমরা আন্তরিকভাবে কাজটা করি।’

গত সোমবার ১১ দফা বিধিনিষেধের ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। বিধিনিষেধ চলাকালে বাস-ট্রেন ফের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে। উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এর আগে করোনা পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনা করে গত ৩ জানুয়ারি এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভা শেষে ৪ জানুয়ারি ১৫ দফা নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ১১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

চ্যালেঞ্জ হতে পারে যেসব বিধিনিষেধ : এ ব্যাপারে ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ‘প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এখানে দুটি জিনিস লাগবে। একটি হলো গণপরিবহন মালিকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে, এর আগে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেটা যদি এবারও না চান তারা তাহলে তাদের করোনা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে হবে। বিধিনিষেধ মানলে করোনা অল্প অল্প করে বাড়বে, নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে ও গণপরিবহনও একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে না। একইভাবে শপিং মল, দোকান মালিক সমিতি ও রেস্টুরেন্ট মালিকদেরও বোঝাতে হবে। কারণ সংক্রমণ বেশি হলে এসব প্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারকে এদের বোঝাতে হবে।’

আবার সরকারেরও কিছু দায়িত্ব আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারকে এসব বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, সেটা দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। এসব জায়গায় দক্ষতার সঙ্গে প্রশাসন ও যারা সম্পৃক্ত, তাদের যদি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে এসব বিধিনিষেধ কাজ করবে।’

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া। সরকার এর জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সেটা সম্ভব। যেসব জায়গায় টিকা পাওয়া যাচ্ছে না, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে টিকা দিতে হবে। এটা পারা যাবে, তবে চ্যালেঞ্জ। ধরন বুঝে রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে টিকা সনদ প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এটার সামাজিক দায়বদ্ধতাও আছে। সেটা যদি করা যায়, তাহলে সম্ভব।’

চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ঘরোয়া অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, কমিউনিটি সেন্টার বা রেস্টুরেন্টে যতগুলো আসন আছে, তা অর্ধেক খালি রেখে অনুষ্ঠান করতে হবে। মসজিদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে, সবাই মাস্ক পরে যাবে, একটা কাতার খালি রেখে পরের কাতারে মুসল্লিরা দাঁড়াবেন। ১২ বছরের ঊর্ধ্বের ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে যেখানে টিকা পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে সমস্যা হবে। কিন্তু যেখানে টিকা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে টিকা নিয়েই ক্লাসে ঢুকতে পারে। রেস্টুরেন্ট বা আবাসিক হোটেলে টিকার সনদ প্রদর্শন কঠিন নয়। ব্যক্তি বা কর্র্তৃপক্ষ নিজেরাও টিকার কার্ড ডাউনলোড করতে পারেন।’

বিধিনিষেধ মানলে সার্বিক বিধিনিষেধ ঠেকানো যাবে : ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘এসব বিধিনিষেধ সবাইকে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে এই কারণে যে, যখন সংক্রমণ বেড়ে যাবে, হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে যাবে, তখন সরকারি সার্বিক বিধিনিষেধে যেতে বাধ্য হবে। তখন গণপরিবহন, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, অফিস-আদালত সব বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আংশিক বিধিনিষেধ কার্যকর করে দীর্ঘদিন আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে হবে।’

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘এসব বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানা গেলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রভাব পড়বে। এখন থেকে যদি মেনে চলি, তাহলে দুই সপ্তাহ পর থেকে সংক্রমণে ধীরগতি আসবে। আস্তে আস্তে বাড়বে, এখন যেরকম দ্রুতগতিতে বাড়ছে, সেরকম হবে না। দ্রুতগতির সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা যাবে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সময় ও সুযোগ পাব।’

দরকার সবার সমন্বিত উদ্যোগ : ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তো আছেই। তবে নিয়মগুলো কার্যকর করার জন্য সংগঠিত সামাজিক উদ্যোগ দরকার। সে উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকেও নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। এসব প্রতিনিধির দায়িত্ব দেওয়া আছে যে তারা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনদের নিয়ে করোনা প্রতিরোধ ও টিকার ব্যবস্থা করবে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ উদ্যোগ নিতে পারলে ভালো হতো। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের মেয়র, তারা গতবার জোনভিত্তিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করেছেন, এবারও সেটা করতে পারেন। সবাইকে নিয়ে এসব বিধিনিষেধ মানা গেলে সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো। সবার স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ছাড়া এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা কঠিন।’

ভাড়া না বাড়াতে অর্ধেক আসন খালি রাখতে নারাজ বাসমালিকরা : আজ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া বিধিনিষেধ চলাকালে পুরনো ভাড়ায় গণপরিবহন পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে ভাড়া বৃদ্ধি না করলেও মালিকপক্ষ যত আসন তত যাত্রী পরিবহনের অনুমতি চেয়েছে। গতকাল দুপুরে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারের সঙ্গে মালিকপক্ষের বৈঠকে এ প্রস্তাব উঠে এসেছে।

গতকালের বৈঠক প্রসঙ্গে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের প্রস্তাব বিধিনিষেধ চলাকালে বাস ও মিনিবাসে শতভাগ যাত্রী পরিবহন করা হলে মালিকদের লোকসান গুনতে হবে না। ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করা হলে রাজধানীতে পরিবহন সংকট চরম আকার ধারণ করবে ও যাত্রীদের দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছবে। এ অবস্থায় বাস ও বাস টার্মিনালে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এখন যেভাবে বাস ও মিনিবাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে সেভাবে শতভাগ যাত্রী পরিবহন করা উচিত। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের এ প্রস্তাব সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো হবে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের মতে, ‘এখন বাস ভাড়া বাড়ানো যৌক্তিক হবে না। কারণ গত নভেম্বর মাসে জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমাদের ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তারা সবশেষে একমত হয়েছেন, ভাড়া বাড়ানো হলে যাত্রীদের ওপর বেশি চাপ তৈরি করা হবে এবং এটি এই মুহূর্তে বাড়ানো যৌক্তিক হবে না।’

শনিবার থেকে ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী : বিধিনিষেধ চলাকালে দেশের আন্তঃনগর ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ। আগামী শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ রেলওয়ের উপপরিচালক মো. নাহিদ হাসান খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীদের সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আন্তঃনগর ট্রেন সময় বিদ্যমান জনসংখ্যার অর্ধেক কিছু টিকিট ইস্যু করা হবে। হ্রাসকৃত যাত্রীর টিকিট অর্ধেক কাউন্টারের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক মোবাইলে বা অনলাইনের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্ট্যান্ডিং টিকিট ও স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের টিকিট ইস্যু সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মানতে হবে যে ১১ বিধিনিষেধ : আজ থেকে কার্যকর হওয়া যে ১১ দফা বিধিনিষেধ মানতে হবে, সেগুলো হলো

১. দোকান, শপিং মল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। ২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে কোনো ব্যত্যয় রোধ করতে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। ৩. হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য করোনার টিকার সনদ প্রদর্শন করতে হবে। ৪. ১২ বছরের বেশি সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক নির্ধারিত তারিখের পর টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টে থাকা ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসা চলবে না। স্থলবন্দরগুলোতেও আসা ট্রাকের সঙ্গে শুধু চালক থাকবে। কোনো সহকারীকে পোর্টের বাইরে আসতে দেওয়া হবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চ সক্ষমতার অর্ধেকসংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলবে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। চালক ও সহকারীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা নিতে হবে। ৭. বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কভিড টিকা সনদ থাকতে হবে। দেশে এসেই তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে। ৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরার বিষয়ে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় সচেতন করবেন ইমামরা। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। ৯. করোনার টিকা ও বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তাদের সহযোগিতা দেবে। ১০. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ বন্ধ থাকবে। ১১. কোনো এলাকায় বিশেষ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এমনকি গতকাল দেশে এই প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত গত এক মাসে মোট ৩৩ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত হলেন।

দফায় দফায় বিধিনিষেধ : এর আগে করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশে কয়েক দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। ২০২০ সালে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে মার্চের শেষদিকে দেশ জুড়ে লকডাউন জারি করা হয় এবং তা দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলে। সেই লকডাউনে জরুরি সেবার পরিবহন এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যে কারও চলাচল ছিল নিষিদ্ধ। সব অফিস-আদালতের পাশাপাশি কলকারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।

ডেল্টা সংক্রমণের পর গত বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় লকডাউনের বিধিনিষেধ ছিল। তবে ‘জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য’ রক্ষায় এ দফায় কলকারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সংক্রমণের হার দ্রুত কমে এলে গত বছর সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয় ও জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।

পরে ওমিক্রনের কারণে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১১ জানুয়ারি সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে।