নারায়ণগঞ্জ সিটির সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই স্বশিক্ষিত। কেউ কেউ আছেন ফৌজদারি মামলার আসামি।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উচ্চ শিক্ষিতদের চেয়ে স্বশিক্ষিত প্রার্থীদের প্রচারণার ধরন আর আচরণ কিছুটা ব্যতিক্রম। তাছাড়া অর্থের জোরে তাদের অবস্থানও ভোটের মাঠে তুলনামূলকভাবে ভালো।
সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৪ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৬ জন। এসব প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুধুমাত্র স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন ও স্বশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা ২১ জন। এসএসসির নিচে ১৩ জন। ফৌজদারি মামলার আসামি ২২ জন।
হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮ জনের মধ্যে চারজনই স্বশিক্ষিত। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ জনের মধ্যে স্বশিক্ষিত চারজন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জনের মধ্যে ৩ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা কিছুই নেই। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ জনের মধ্যে ৩ জন স্বশিক্ষিত। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জনের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত ৩ জন। তবে লড়াই হবে স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন দুজনের মধ্যে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ জনের মধ্যে স্বশিক্ষিত ৬ জন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জনের মধ্যে ৪ জন বিএ ও ২ জন এইচএসসি পাস হলেও মূল লড়াই হবে এইচএসসি পাস ও স্বশিক্ষিত এক প্রার্থীর মধ্যে। ৯ নম্বরে ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই এসএসসির নিচে। ১০ নম্বরে ৩ জনের মধ্যে একজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি।
ফৌজদারি মামলায় এগিয়ে আছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রার্থী ১৪টি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ৯টি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রার্থী ৭টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একজন ৫টি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ৫টি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ৪টি। এছাড়া অনেক প্রার্থী রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে এক থেকে তিনটি করে মামলা আছে।
সংরক্ষিত তিনটি আসনে ১৬ জনের মধ্যে ১১ জনই অষ্টম শ্রেণি পাস করেননি। তাদের মধ্যে একজনের নামে মামলা রয়েছে। তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী।
নির্বাচনী এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, উচ্চ শিক্ষিত যেসব প্রার্থী আছেন তাদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম দেখা যাচ্ছে। তাদেরকে ‘যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী’ আখ্যায়িত করা হলেও আর্থিক দুর্বলতাসহ নানা কারণে তারা জনমত তৈরি করতে পারছেন না। শেষমেশ অর্থের জোরে স্বশিক্ষিতদের গলায় জয়ের মালা উঠবে বলে তারা ধারণা করেন। কোনো কোনো ভোটার বলেন, উচ্চ শিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত না করলে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে জনগণ। এসব জনপ্রতিনিধি সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও শিক্ষিত সমাজ গঠনে অতটা ভূমিকা রাখতে পারেন না।