তালেবান আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানদের দুরবস্থা যেন বেড়েই চলেছে। দেশটিতে চলমান মানবিক ও আর্থিক সংকটও বাড়ছে প্রতিদিন। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের লাখ লাখ নাগরিক ‘মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের বিদ্যমান বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য জাতিসংঘের যে ৫ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা আবেদন রয়েছে, সেটিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। এছাড়া আফগানিস্তানকে সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে দেশটির বাজেয়াপ্ত সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং আফগান ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অচলাবস্থা থেকে কাটিয়ে জোরেশোরে চালু করতে হবে বলেও জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আন্তোনিও গুতেরেস জানান, হিমায়িত তাপমাত্রা এবং হিমায়িত সম্পদ, উভয়ই আফগানিস্তানের জনগণের জন্য প্রাণঘাতী বিষয়। আর তাই মানুষের জীবন ও বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করা থেকে বাধা দেয় এমন নিয়ম ও শর্তগুলো এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে স্থগিত করতে হবে।
এমনিতেই দশকের পর দশক ধরে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান। গত আগস্টে তালেবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকে সেই পরিস্থিতি দিনে দিনে কেবল খারাপই হয়েছে। আফগানিস্তানে বর্তমানে যা আর্থিক পরিস্থিতি, তাতে এই প্রবল শীতে লাখ লাখ মানুষকে অভুক্ত থাকতে হতে পারে। ২০ বছর পর গত বছরের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান দখলে নেয় তালেবান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তালেবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেয়। অবশ্য সরকার গঠন করলেও বিশ্বের কোনো দেশই এখনো পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর জেরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থাও আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাসহ অর্থ সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়।
ফলে দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট প্রতিদিনই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এছাড়া তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের আগে থেকেই বিদেশি সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল আফগানিস্তানের অর্থনীতি। আগস্ট থেকে সেই সহায়তা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ও মানবিক সংকট কেবলই বেড়েছে। জাতিসংঘ বলছে, বর্তমানে ৮৭ লাখ আফগান অনাহারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।